পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৬২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Gb-8 কলিকাতা সেকালের ও একালের । গোবিন্দরাম মিত্রের কথা আমরা ইতিপূৰ্ব্বে বহুবার বলিয়াছি। তাহার প্রাসাদ-তুল্য কুমারটুলীর অবাস-ভবন, নবরত্ন, কলিকাতার একটা দর্শনীয় জিনিস ছিল। বাগবাজারের সিদ্ধেশ্বরী কালী তাঁহারই প্রতিষ্ঠিত। ১৭৩৭ খ্ৰীঃ অকের মহাঝড়ে অর্থাৎ পলাশযুদ্ধের কুড়ি বৎসর আগে, নবরত্ব মন্দিরের চুড়া ভাঙ্গিয়া পড়ে। ইতিহাস-প্রসিদ্ধ উমিচাদ, কলিকাতা সহরের মধ্যেই থাকিতেন । র্তাহার আবাসস্থান, একটী সুবৃহৎ রাজপ্রাসাদের মত নানা অংশে ভাগ করা ছিল। কলিকাতার অনেক গুলি বড় বড় ভাড়াটিয়া বাড়ীর তিনি মালিক ছিলেন । ইংরাজেরা এই বাড়ীগুলি বসবাসের জন্ত ভাড়া লইতেন । উমিচাদের হীলসীবাগানে এক উদ্যান-বাটীও ছিল। এই বাগানেই নবাব সিরাজউদৌলা তাহার তাবু ফেলিয়াছিলেন। তাহার নিকট আত্মীয়, বাৰু ছজরীমলও কলিকাতায় বাস করিতেন। আজও হজরীমল্স ট্যাঙ্কলেন র্তাহার স্মৃতি-রক্ষণ করিতেছে । এই বাবু হুজুরীমল, কোম্পানীর পক্ষে কোন হিতজনক কাৰ্য্য করিয়া, কালীঘাটের মধ্যে অনেক নিষ্কর জমী পাইয়াছিলেন। কালীঘাটে একটা বাধাঘাট, মন্দির ও অতিথিশালা নিৰ্ম্ম ণের কল্পনা ছিল। কিন্তু অপরের দান করা জমীতে ধৰ্ম্মশীলা প্রতিষ্ঠা করিতে নাই ভাবিয়া, হুজুরীমল এ সংকল্প ত্যাগ করেন। কালীঘাট-প্রসঙ্গে আমরা এ কথার উল্লেখ করিয়াছি । মহারাজ নবকৃষ্ণের বটই স্বতালুট অঞ্চলের গৌরবস্বরূপ ছিল। পূজার দালান, দেবমন্দির, নাটমন্দির. বাগান ও পুষ্করিণী-শোভিত প্রাসাদতুল্য শোভাবাজার রাজবাটী কলিকাতার সেকালের অনেক ধনীর ঈর্ষার কারণ হইয়াছিল। কাশীনাথ বাবু বড়বাজারে থাকিতেন। এতদ্ভিন্ন ধৰ্ম্মভীরু বৈষ্ণবচরণ শেঠ, নিঃস্বাৰ্থদাতা গৌরী সেন বড়বাজারের অধিবাসী ছিলেন। বাৰু শোভারাম বসাক ও নীলমণি মিত্রও এই সময়ে বেশ অবস্থাপন্ন বাঙ্গালী ছিলেন। বাগবাজারের গোকুল মিত্রের, চোরবাগান ও বড়বাজারের মল্পিক বাবুদের আদিপুরুষগণও পলাশীঘুদ্ধের-পর কলিকাতায় আবাসস্থান সংস্থাপন করিয়াছিলেন। ভূকৈলাস রাজবংশের আদিপুরুষ, গবর্ণর ভেরিলষ্ট সাহেবের দেওয়ান ছিলেন। ইনিও গোবিন্দপুর হইতে বাস উঠাইয়া, খিদিরপুরে প্রাসাদতুল্য গড়বন্দী রাজবাটা নিৰ্ম্মাণ করিয়া “ভূকৈলাস” নাম প্রদান করেন । এই বংশের জয়নারায়ণ ঘোবাল, দেওয়ান গোকুল ঘোষাল প্রভৃতি স্বনামধন্য পুরুষ ছিলেন। এ বাট ও গড়খাই আজও বর্তমান। বাঙ্গালীটোলার কথা ত বলা হইল। এখন জমির পুনরায় ইংরাজ