পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


રક્ત কলিকাতা সেকালের ও একালের । | আবার শান্তিময় হইয়াছিল। বুদ্ধিমান সুলেমান, দিল্লীতে প্রচুর উপটৌকন প্রেরণ করিয়া, সম্রাট আকবরের ব্যতা স্বীকার করিলেন। মোগল-সরকারে নিয়মিত রূপে রাজস্ব প্রেরণ করিতে লাগিলেন। 总 বাদসাহকে হস্তগত করিয়া, সুলেমান বঙ্গের আভ্যন্তরিণ শাসন এবং বাণিজ্য-কার্য্যের উন্নতির দিকে মনোযোগ দিলেন। ভাগ্যক্রমে, রামচন্দ্র ইতিপূৰ্ব্বেই রাজ-সরকারে নিযুক্ত হইয়াছিলেন। স্বলেমান তাহার গুণের ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাইয়া—তাহাকে মন্ত্ৰীপদ প্রদান করেন । গৌড়নগরে আসিয়া, রামচন্দ্রের ভাগ্য-পরিবর্তন হইল। এই সময়ে তিনি সপ্তগ্রাম হইতে, র্তাহার স্ত্রী-পুত্ৰগণকে গৌড়ে আনাইলেন। জ্যেষ্ঠপুত্র ভবানন্দের তিনি ইতিপূৰ্ব্বেই বিবাহ দিয়াছিলেন। গৌড়ে—এই উন্নতির সময়, রামচন্দ্র পৌত্রমুখ দেখিলেন। পৌত্রের নাম হইল-ত্ৰহরি। পরে এই ঐহরিই, বিক্রমাদিত্য নামে ইতিহাসে পরিচিত হন। রামচন্দ্র, তাহার অবস্থার এই মহা-উন্নতির দিনে, আত্মীয়-বন্ধু-বর্গকে ভূলিলেন না। যে যেখানে আপনার লোক ছিল—তাহাদের সন্ধান করিয়া আনিয়া, গৌড়ের রাজসরকারে চাকরী করিয়া দিলেন । পুত্রগণকেও তিনি পারসী ও সংস্কৃত ভাষা শিখাইয়াছিলেন। তাহারাও রাজকাৰ্য্যে নিযুক্ত হইল । 象 সম্রাটের সহিত সন্ধি-বন্ধন ও বন্ধুত্ব করিয়াও, সুলেমান নিরাপদ হইতে পারিলেন না। উড়িষ্যার অধিপতি, গঙ্গবংশীয় মহারাজ মুকুলদেব, ইতি পূৰ্ব্বে গৌড়-অবরোধ, সপ্তগ্রাম লুণ্ঠন প্রভৃতি ব্যাপারে, বঙ্গের মুসলমান নরপতিগণকে ব্যতিব্যস্ত করিয়া তুলিয়াছিলেন। সুলেমান—দেখিলেন, উড়ি । যার এই পরাক্রান্ত হিন্থ-রাজাকে সম্পূর্ণরূপে বিস্তে করিতে না পরিবে: র্তাহার কোন শ্ৰেয়ঃই নাই । তিনি উড়িষা আক্রমণের জন্স, একদল সেনা প্রেরণ করিলেন। কিন্তু গৌড়েশ্বরের সেনাগণ, উড়িষ্যার হিন্দুরাজার অমিত তেজবলে—সম্পূর্ণ রূপে পরাজিত হইল। হায়! যে উড়িষ্যা-বাসীকে আজ আমরা এত হীন ও নির্বীয্য বলিয়া ঘৃণা করি, সেই উড়িষ্য দেশেরই এক জন রাজা—বহুবার বঙ্গদেশ আক্রমণ করিয়া তাহাকে মুসলমান শাসনপাশ হইতে মুক্ত করার চেষ্টা করিয়াছিলেন। হিন্দুগণের হস্তে পরাজয় বার্তা শুনিয়া, সুলেমান বড়ই মর্শ্বব্যথা পাইলেন। .ৰ্তাহার সেনাপতিগণের মধ্যে অনেকেই উড়িষ্যায় যুদ্ধ-যাত্রা করিতে অনিচ্ছক। এই সময়ে, মুসলমান ধৰ্ম্মে নব-দক্ষিত এক ব্ৰাহ্ম