পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৮১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Գb-o কলিকাতা সেকালের ও একালের । নিৰ্ম্মাণ করিয়া দেন। তৎকালের গবর্ণর জেনারেল, লর্ড উইলিয়াম বেণ্টিছু মহোদয়ের নামে এই ঘাটটি উৎসর্গীকৃত হয় । ইডেন-গার্ডেন, অতি পুরাকালে জঙ্গলপূর্ণ স্থান ছিল। লর্ড অকলাণ্ডের শাসন কালে, এই উদ্যানের প্রাণ-প্রতিষ্ঠা হয়। লর্ড অকল্যাণ্ডের ভগ্নী, মিসেস ইডেন ইহার প্রাণ-প্রতিষ্ঠা করেন। তৎপরে এই সাধারণ ভ্রমণেদ্যানের অনেক উন্নতি সাধিত হইয়াছে। ইহার মধ্যে লোহিত কঙ্করময় ভ্রমণ-পথ, হামল দূৰ্ব্বাক্ষেত্র, ফলপূর্ণ বৃক্ষাদি, কৃত্রিম হ্রদ থাকায়, ইহা এক শোভনীয় রমণেদ্যানে পরিণত হইয়াছে। ইহা এখন ইংরাজ-বাঙ্গালী হিন্দুস্থানী-মাড়োয়ারি প্রভৃতি সৰ্ব্বশ্রেণীর আরাম-উদ্যান । সন্ধ্যার পর এই উদ্যানের এক অংশ বিদ্যু তালোকে উজ্জ্বলিত তষ্টয় উঠে। সেই সময়ে সান্ধ্য-ভ্রমণের জন্য, অসংখ্য ইংরাজ নরনারী ও এদেশীয় ভদ্রজনসজা, এই উদ্যানে সমবেত হন । ইহার মধ্যে একটি “ব্যাণ্ড-ট্যগু” আছে । প্রতিদিন কেল্লার ও ভলণ্টিয়ার-ব্যাণ্ড সমূহ, মধুর বাদ্য-নিক্কণে দিকদিগন্ত মুখরিত করিয়া তুলে । মোটর-ফিটন, ভিক্টোরিয়া-ব্রুগম প্রভৃতি অসংখ্য যান সমূহে, এই উদ্যান পাশ্ববর্তী রাজপথ, উৎসব দৃশ্যময় হইয় পড়ে। এই ইণ্ডি-রোডের উপরই ইতিহাস প্রসিদ্ধ সেকালের “চাদপ{ল-ঘাট” বর্তমান ছিল । কটন ও লং সাহেবদ্ধয় বলেন—“এই ঘাটের সান্নিধ্যে, চন্দ্রনাথপাল বলিয়া এক মুদী দোকান করিত। তখন ইহার চারি পাশ গভীর বন জঙ্গল সমাবৃত। যে সকল পন্থ বা নৌকাযাত্রী এই স্থানে নামিত, তাহারা চন্দ্রপালের দোকান হইতে আহার্য্যাদি সংগ্ৰহ করিত। নবাব যে সময়ে কলিকাতা আক্রমণ করেন, সেই সময়ে চাদপাল ঘাটের নামোল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায় না। ১৭৭৪ খ্ৰী: অব্দে ইহা যে নিশ্চয়ই বর্তমান ছিল, তদ্বিষয়ে কোন সন্দেহই নাই। সেকালে যে সমস্ত উচ্চপদস্থ ইংরাজ, এদেশে কোম্পানী-বাহাদুরের চাকুরী করিতে আসিতেন, তাহার এই ঘাটেই অবতরণ করিতেন। ওয়ারেণ হেষ্টিংসের কৌন্সিলের অন্যতম সদস্য, সার ফিলিপ ফ্রান্সিস, এই ঘাটের সিড়িগুলির উপর দাড়াইয়া-ফোর্ট-উইলিয়াম হইতে ঠহার সম্মানার্থে যে কয়েকটা তোপধ্বনি হইতেছিল, তাইরি এক একটা করিয়া গুণিয়াছিলেন। গবর্ণর-জেনারেলের প্রাপ্যসম্মান-তেীর্ণ ১৯টা। কিন্তু ফ্রান্সিস তাঙ্গর মন্ত্রণা-সভার সদস্য হইয়া— যখন ১৭টা তোপ সম্মানুখে পাইলেন, তখনই তাঙ্গর রোযবছি প্ৰজলিত হইয়া উঠিল। তিনি নিজেকে বড়ই অপমানিত বোধ করিলেন। এই অপমান-স্মৃতি ঠগিং