পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৮৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুৰ্ব্বিংশ অধ্যায়। Rసెను Tes চিৎপুর রোডের বিস্তৃতি ধরিতে গেলে—বহুদূর ব্যাপী। একদিকে টেস্থ ট্রীট, চৌরঙ্গীরোড, রসারোড ও অন্যদিকে ব্যারাষ্ণুপুর ট্রাঙ্করোড। সেকালে মুর্শিদাবাদ নবাবী-কেন্দ্র হইতে এই পথই কলিকাতা, কালীঘাট প্রভৃতি স্থানে যাতায়াতের প্রধান বত্ম ছিল। বৰ্ত্তমান ফৌজদারী-বালাখানায় রবাধী-আমলে, ফৌজদারের কাছারি হইত। হুগলী তখন নবাবী শাসনকেন্দ্রের একট প্রধান অংশ ছিল । মুর্শিদাবাদের নীচেই—হুগলী। হুগলীতে একজন ফৌজদার থাকিতেন। ধরিতে গেলে, ফৌজদার দেশের দণ্ডমুণ্ডের মালিক। এই ফৌজদারের প্রতিনিধি যখন কলিকাতায় আসিতেন, তখন তিনি এই ফৌজদারী-বালাথানতেই থাকিতেন। বৌবাজার ও বৈঠকখানা। লালবাজারের মোড় হইতে আরম্ভ হইয়া, এই রাস্তা বরাবর পূর্বদিকে শিয়ালদহের অভিমুখে চলিয়া গিয়াছে। আগে অর্থাৎ পলাশী আমলে এই পথের দুইধারে বড় বড় গাছ ছিল । ইহা সেকালে Avenue to the Eastward বলিয়া পরিচিত হইত। এই পথের ধারে শিয়ালদহের নিকট ইতিহাস-প্রসিদ্ধ “বৈঠকখানা-বৃক্ষ।” পূৰ্ব্বে এইস্থানে একটা বৃহৎ বটগাছ ছিল । সেই বটগাছের শান্ত-শীতল ছায়াতে, নানাস্থানের ব্যবসায়ীরা, অর্থাৎ যাহার। পুরাকালের কলিকাতায় বাণিজ্যার্থে যাতায়াত করিত, মনের আনন্দে বিশ্রাম করিত। প্রবাদ আছে, কলিকাতা প্রতিষ্ঠাতা জব চাণকও এই বৃক্ষতলে বসিয়া, বিশ্রামকালে প্রচণ্ড রৌদ্রের সময় পাইপ টানিতেন । এ "বৈঠকখানা-বৃক্ষ” বহুদিন লোপ হইয়াছে। কিন্তু বৈঠকখানা নামটী আজও বৰ্ত্তমান । লর্ড কর্ণওয়ালিসের আমলেও, এইস্থান “বৈঠকখানা” বলিয়া পরিচিত ছিল । - বহুবাজারের নাম—স্বনাম-প্রসিদ্ধ এই বাজার হইতেই হইয়াছে। বহুবাজারের প্রসিদ্ধ মতিলাল বংশের আদিপুরুষ, বিশ্বনাথ মতিলাল মহাশয়, তাহার এক পুত্রবধূকে এই বাজারটা দান করেন । “বধূবাজার” এই কথা হইতে “বহুবাজার” ও ক্রমশঃ তদপভ্রংশ “বৌবাজার" নামকরণ হইয়াছে। ১৭৮৪ খ্ৰীঃ অব্দের ম্যাপে, লালবাজার হইতে শিয়ালদহ পৰ্য্যস্ত এই সমস্ত পথটা “বৈঠকখানা-রোড" বলিয়া চিহ্নিত ছিল। এই বৈঠকখানা-বৃক্ষটা অপজানের_ম্যাপেও চিহ্নিত ছিল। আজকাল ণে স্থানে শিয়ালদহ রেল-ষ্টেশন হুইয়াছে, সেই স্থানেই বৈঠকখান।