পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৮৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুৰ্ব্বিংশ অধ্যায়। b->\○ লোক হিতকর কার্য্যেই তাহার উৎসাহ ছিল। দ্বারকানাথ ঠাকুরের জৰাসবাটী, এই গলিতে অবস্থিত বলিয়া, গলিটির নামকরণ র্তাহার নামেই इहेग्नां८छ् । গোকুল-মিত্রের গলি । গোকুল-মিত্র, সেকালের বাগবাজারের একজন নামজাদা লোক । প্তাহার প্রাসাদ-তুল্য বাটী, আজও চিৎপুর-রোডের উপর বর্তমান। এতৰভু নাটমন্দির বা নাটমন্দির আর কোন বাটীরই নাই। বাগবাজারের “মদনমোহন ঠাকুর” এই গোকুল মিত্রের বাটীতেই আছেন। গোকুল মিত্র, অতি ক্রিয়াবান লোক ছিলেন । দুর্গোৎসব, রাস, দোল, ইত্যাদিতে র্তাহার এই প্রাসাদতুল্য বাটী, বৎসরের সকল সময়ই কোলাহল-সস্কুল থাকিত। এখনও উছার নিৰ্ম্মিত পুরাকালের দোল ও রাসমঞ্চ বৰ্ত্তমান। কোজাগরী প্রতিপদে, প্রতিবৎসর এই গোকুল-মিত্রের বাটীতে “অন্নকুট-মহোৎসব" এখনও হইয়া থাকে। প্রবাদ এই, মদনমোহন বিগ্রহ পূৰ্ব্বে বিষ্ণুপুরের রাজাদের দখলে ছিল । বিষ্ণুপুরাধীপ রাজা দামোদর সিংহ, দেনার দায়ে ইহা গোকুল-মিত্রের নিকট এক লক্ষ টাকায় বন্ধক রাখেন। কিন্তু খালাস করিতে না পারায়, এ বিগ্রহ গোকুল মিত্রেরই হয়। আর একটা প্রবাদ আছে—গোকুল-মিত্র, বিষ্ণুপুরের মদন-মোহনের যুগল মূর্তির অম্বরূপ, আর একজোড়া রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ নিৰ্ম্মাণ করেন ও রাজাকে তাহার নিজের বিগ্রহ বাছিয়া লইতে বলেন। রাজা ঠিক চিনিতে না পারিয়া, নকল মদনমোহন লইয়া যান। আসল বিগ্রহ, মিত্ৰজারই হয়। গোকুলমিত্রের পিতার নাম সীতারাম মিত্র। বালী-ইহঁদের আদি বাসস্থান । তৎপরে কলিকাতায় বাস হয়। গোকুল মিত্র কোম্পানীর নিম্বকী-বিভাগে কাজ করিয়া বড়লোক হন । ইনি মহারাজা নবকৃষ্ণের সমসাময়িক । সেকালের কোম্পানীর সেরেস্তার কাগজপত্রের দুই চারি স্থলে, মিত্রজীর নামোল্লেখ দেখিতে পাওয়া যায়। মিত্রজার প্রাসাদ-তুল্য বাটী, কলিকাতার পুরাকালের একটা প্রধান দর্শনীয় জিনিস । বারাণসী ঘোষের ষ্ট্রীট। ৷ বারাণসী ঘোষের ষ্ট্রীট, জোড়াসাকো হইতে আরম্ভ হইয়াছে । এই পথের উপর স্বৰ্গীয় মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহের প্রাসাদ-তুল্য বাটী।