পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৯৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


29 о о কলিকাতা সেকালের ও একালের । ইণ্ডিয়ান মিউজিয়াম। বঙ্গদেশের সর্বশ্রেণীর লোকের নিকট, এই মিউজিয়ামের নাম সুপরিচিত। নিরক্ষর মুখ হইতে, শিক্ষিত স্থপত্তিত পৰ্য্যন্ত, সকলেই ইহা ইহবার দেখিয়া আসিয়াছেন । হিন্দুস্থানীরা ইহাকে “যাদুঘর” বলেন। সাধারণের ইহাতে প্রবেশ সম্বন্ধে কোন বাধাই নাই, তবে এজন্য কয়েকট বিশেষ দিন নিৰ্ব্বাচিত আছে । ইহা একু কথায়, একটী উচ্চশ্রেণীর আননাপ্রদ শিক্ষাগার। সুপণ্ডিত ঐতিহাসিকের, প্রত্নতত্ত্বামুশীলনকারীর আনন্দময় পরীক্ষা-ক্ষেত্র। অশোকের রাজত্বকাল হইতে আরম্ভ করিয়া ভারতের বহু অতীত যুগের, হিন্দু ও বৌদ্ধ যুগের, স্থপতি-বিদ্যার, শিলালিপির, অনুশাসন ও প্রাচীন মুদ্রাদির পূর্ণ সমাবেশ, এই বাড়ীতে সংগৃহীত। খনিবিদ্যা, প্রাণীতত্ত্ব প্রভৃতি আলোচনার জন্য নানাবিধ উপাদান এখানে সংগৃহীত হইয়াছে। প্রত্যেক বিভাগের পরিচয়ের জন্য, এক একখানি মুদিত পুস্তক আছে। মূল্য দিয়া সেই Guide Book কিনিতে হয়। ইহাত গেল পণ্ডিতদিগের পক্ষের ব্যবস্থা । সাধারণ লোকে, এখানে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ভালুক, গণ্ডার ও পক্ষী ব্যাঘ্র প্রভৃতির দেহাবশেষ ও অস্থি কঙ্কলাদি দেখিতে যায়। ভারতের সকল প্রদেশের শিল্পকলার নিদর্শন, ইহাতে সংগৃহীত । বgমান বাড়ীট ১৮৭৫ খ্ৰীঃ অব্দে সাধারণের জন্ত খোলা হয়। এই বাটীর প্ল্যান, গবর্ণমেণ্টের সেকালের বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালটার গ্রাশভিল সাহেব প্রস্তুত করেন । চৌরঙ্গীর দিকে ইহার পুরোভাগের পরিসর তিন শত ফিট । সদর ট্রীটের দিকে—২৭০ ফিট। বাড়ীটি জাগে ত্রিতল ছিল—এক্ষণে চতুস্তল হইয়াছে। এরূপ সুবৃহৎ উঠানওয়াল বাটী কলিকাতার সাহেব-পল্লীতে খুব কম আছে। ধরিতে গেলে, এই স্ববৃহৎ মিউজিয়াম, এসিয়াটিক-সোসাইটির দ্বারাই প্রথম স্থাপিত হয় । ১৮৬৬ খৃঃ অব্দে গবর্ণমেণ্ট কলিকাতায় একটা সাধারণ মিউজিয়াম স্থাপিত হইবে, এ সম্বন্ধে একটি অাইন বিধিবদ্ধ করেন । এই আইনের বলে, ইহা গবর্ণ মেন্টের সম্পত্তি হয়। এখানে যে সমস্ত কৰ্ম্মচারী কার্য্যে নিযুক্ত-ৰ্তাহারী গবর্ণমেণ্টের নিকট হইতেই বেতনাদি প্রাপ্ত-হন। কলিকাতার মিউজিয়াম একটী দর্শনীয় জিনিস। প্রত্নতত্ত্ববিৎ পণ্ডিত ক্ষণের অতীত যুগের ঐতিহাসিক গবেষণার প্রশস্ত ক্ষেত্র । পূৰ্ব্বকী?