পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৯৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


సిలిE কলিকাতা সেকালের ও একালের । প্রসিদ্ধ ধনী ও কালীভক্ত শঙ্কর ঘোষ মহাশয়, বর্তমান মন্দিরট ও প্রতিমাখানি নিৰ্মাণ করিয়া দেন। এই মন্দিরগাত্রে আজও— কালী বিরাজে । লিখিত একখানি প্রস্তর-ফলক সংযোজিত আছে। এই প্রস্তরফলকথানির লিখিত “শঙ্কর” শব্দটী দুই অর্থেই ব্যবহৃত হইতে পারে। শঙ্কর ঘোষ মহাশয় এই কালী মন্দিরের পার্শ্বে একটা শিবমন্দিরও প্রতিষ্ঠা করিয়া গিয়াছেন নিমতলা ঘাট । নিমতলাঘাট, কলিকাতার হায় জনপূর্ণ সহরের মহাশ্মশান। দম্ভ, ঐশ্বৰ্য্য, আত্মগরিমা ও ঐশ্বর্য্যের দীপ্তিবিকাশ এই মহাশ্মশানেই পর্য্যবসিত হয়। সেকালের নিমতলাঘাট আনন্দময়ীমন্দিরের নিকটেই ছিল । বর্তমানকালে গঙ্গা দূরে সরিয়া যাওয়ায় পোটকমিশনারগণ প্রচুর অর্থব্যয়ে এই মহাশ্মশানটী নিৰ্ম্মাণ করিয়া দিয়াছেন । ইহার পার্শ্বে, স্বগীয় গিরিশচন্দ্র বসু মহাশয়, শবযাত্রীদিগের ও মুমুধু গঙ্গাযাত্ৰীগণের অবস্থানের জন্ত, একটা দ্বিতল বাট নিৰ্মাণ করিয়া দিয়া যথেষ্ট পুণ্যসঞ্চয় করিয়া গিয়াছেন। এই নিমতলা শ্মশানক্ষেত্ৰ—জ্ঞান ও বৈরাগ্যের শিক্ষণভূমি। কলিকাতা সছরের নামজাদা যত বড় বড় লোক, বাণীর অতি প্রিয়পুত্ৰগণের দেহের ভস্মাৰশেষ, এই স্থানেই রক্ষিত। রামগোপাল, কৃষ্ণদাস, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম প্রভৃতির পবিত্র চিতাভষ্মে, এই স্থান মহাতীর্থে পরিণত । নিমতলা পুশানঘাটের ন্যায় স্থপ্রশস্ত ও স্ববৃহৎ দাস্থক্ষেত্র বঙ্গদেশে আর কোথাও ‘নাই। নিমতলাঘাটের একটু দূৱে স্বৰ্গীয় কাশীনাথ মিত্রের ঘাট । ইহ সাধারণের নিকট “কাশীমিত্রের ঘাট” বলিয়া পরিচিত। নিমতলা বাটের দাহকার্য্যাদির ব্যর সম্বন্ধে, কলিকাতা মিউনিসিপ্যালিটী একটা মূল্যের তালিকা নির্দেশ করিয়া দিয়াছেন। তদনুসারেই সাধারণকে দাহ-কার্ষোর খরচ দিতে হয়। অক্ষম ও যোত্রহীনগণের ব্যয় মিউনিলিপ্যালিটাই বহন করিয়া থাকেন। ধৰ্ম্মতলার মসূজেদ । ধৰ্ম্মতলার মোড়ে, কুক্‌ কোম্পানীর আড়গড়ার পার্শ্বে, যে স্ববৃহৎ মিনার সম্বলিত মস্জেদটী আছে—তাহা "ধৰ্ম্মতলার মস্জেদ” বলিয়া, সাধারণ্যে পরিচিত । -