পাতা:কল্পদ্রুম তৃতীয় খণ্ড.djvu/৪৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ভাষার নমনীয়তা ৷ 84:ጓ সেই সময় ঐ সকল শব্দের গঠন হইয়াছে। মাস, গে, অশ্ব, বরাহ, ক্রমেলক (উস্ট্র ), অবি, হংস, রাজা, রাস্ত্রী, নৌ, পিতৃব্য, শ্বশ্ৰু, মধু প্রভৃতি বিশুদ্ধ সংস্কৃত শব্দগুলি কেবল যে প্রাচীন ঋষিগণ ব্যবহার করিয়া গিয়াছেন তা নয়, এখনও ঐ সমুদায় শব্দ ব্যবহৃত হইয়া থাকে। যদি শাব্দিকদিগের মত সমূলক ও প্রামাণিক বোধ কর, তবে বল দেখি—যে যে জাতিকে আর্য্যংশসস্তৃত অনুমান করিতেছ, তাহার কোন কোন সময় আমাদিগকে ত্যাগ করিয়া স্থানান্তরে উপনিবেশ করিয়াছেন ? কতকগুলি বিশুদ্ধ সংস্কৃত শব্দ অন্য জাতির ভাষার কতকগুলি শব্দের সদৃশ দেখাইতেছ, তাহাই বলবৎ প্রমাণ, সেই প্রমাণের সহায়তায় বলিতেছ লাটিন, গ্ৰীকৃ, কেণ্টিক টিটোলিক প্রভৃতি জাতি আৰ্য্যবংশসস্তৃত। তবে দেখ তোমার প্রস্তাবিত তর্ক কি বলিয়া দিতেছে—আর্য্যেরা যখন সংস্কৃত ভাষা মার্জিত করিয়া তুলিয়াছিলেন, সংস্কৃত ভাষায় লিখিতে পড়িতে শিখিয়াছিলেন, যখন র্তাহাদের প্রকৃতি প্রত্যয় জ্ঞান হইয়াছিল ও ধাতু বিভক্তির জ্ঞান জন্মিয়ছিল, সেই সময়ে আৰ্য্য জাতি নানা সম্প্রদায়ে বিভক্ত হইয়া দেশ বিদেশে উপনিবেশ করিয়াছিলেন। বাক শক্তির সঙ্গে সংস্কৃত ভাষা তাহদের অনুগামিনী হইল । . . . তোমার কথা মানিলাম। ভাল, এখন তোমার কথায় আস্থা প্রদর্শন - করিতেছি—ক্ষতি নাই। কিন্তু দেখ দেখি চরম ফল কি হইয়া দাঁড়ায়ু: ভারতবর্ষে সংস্কৃত শব্দ ভাঙ্গিয় বাঙ্গালা, হিন্দি, উড়িয়া, গুজরাটী তৈলঙ্গী, প্রভৃতি নানা ভাষা হইয়াছে। ঐ ভাষাগুলিতে প্রস্থতি-সংস্কৃত ভাষার স্পষ্ট আকার ও অবয়ব প্রতীয়মান হয়। তদ্ভিন্ন, ভারতে সেই আদিম ংস্কৃত ভাষার অদ্যাপি সমধিক চর্চ রহিয়াছে। এখন সংস্কৃত ভাষায় কথা বাৰ্ত্ত হয় না, কিন্তু ভারতে তাহার অনুশীলনের ক্রটি হয় নাই। তোমার কি এটা কৌতুককর বোধ হইতেছে না ?—দশটা সম্প্রদায় এক সংস্কৃত সম্বল । লইয়া দশটা ভিন্ন দেশে উপনিবেশ করিলেন। ভারতবাসিরা যেমন, র্তাহারাও সেইরূপ—সকলের সমান ভাষা, সমান আচার ব্যবহার । আশ্চর্যের বিষয়,–সংস্কৃত ভাষার অনুশীলন কেবল ভারতবাসীদের কাছেই থাকিয়া গেল,—আবার সংস্কৃত হইতে যে সকল শাখা-ভাষা উৎপন্ন হইল, ভারতেই মুল সংস্কৃতের সঙ্গে তাহদের সাদৃশ্য রহিল ; অন্য দেশে আদিম সংস্কৃত ভাষার চর্চা এককালে বিলুপ্ত হইয়া গেল,—আবার যে নুতন ভাষার স্বষ্টি ( (the ).