পাতা:কাদম্বরী.djvu/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
৬৪
কাদম্বরী।

প্রাণ দেহকে পরিত্যাগ করিয়া গিয়াছে। ললাটে ত্রিপুণ্ড্রক, স্কন্ধে বল্কলের উত্তরীয়, গলে একাবলী মালা, হস্তে মৃণালবলয়ধারণ পূর্ব্বক অপূর্ব্ব বেশ রচনা করিয়া যেন, আমার সহিত সমাগমের নিমিত্ত অনন্যমনা হইয়া মন্ত্র সাধন করিতেছেন। কপিঞ্জল তাঁহার কণ্ঠ ধারণ করিয়া রোদন করিতেছেন। অচিরমৃত সেই মহাপুরুষকে এই হতভাগিনী ও পাপকারিণী আমি গিয়া দেখিলাম। আমাকে দেখিয়া কপিঞ্জলের দুই চক্ষু হইতে অশ্রুস্রোত বহিতে লাগিল। দ্বিগুণ শোকাবেগ হইল। অতিশয় পরিতাপ পূর্ব্বক হা হতোস্মি বলিয়া আরও উচ্চৈঃস্বরে রোদন করিতে লাগিলেন।

 তখন মূর্চ্ছা দ্বারা আক্রান্ত ও মোহে নিতান্ত অভিভূত হইয়া বোধ হইল যেন, অন্ধকারময় পাতালতলে অবতীর্ণ হইতেছি। তদনন্তর কোথায় গেলাম, কি বলিলাম কিছুই মনে পড়ে না। স্ত্রীলোকের হৃদয় পাষাণময় এজন্যই হউক, এই হতভাগিনীকে দীর্ঘ শোক ও চিরকাল দুঃখ সহ্য করিতে হইবে বলিয়াই হউক, দৈবের অত্যন্ত প্রতিকূলতাবশতই বা হউক, জানি না কি নিমিত্ত এই হতভাগিনীর প্রাণ বহির্গত হইল না। অনেক ক্ষণের পর চেতন হইয়া ভূতলে বিলুণ্ঠিত ও ধূলিধূসরিত আত্মদেহ অবলোকন করিলাম। প্রাণেশ্বর প্রাণত্যাগ করিয়াছেন, আমি জীবিত আছি, প্রথমতঃ ইহা নিতান্ত অসম্ভাব্য, অবিশ্বাস্য ও স্বপ্নকল্পিত বোধ হইল। কিন্তু কপিঞ্জলের বিলাপ শুনিয়া সে ভ্রান্তি দূর হইল। তখন হা হতোঽস্মি বলিয়া আর্ত্তনাদ ও পিতা মাতা সখিদিগকে সম্বোধন করিয়া উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করিতে লাগিলাম।

 হে জীবিতেশ্বর! এই অনাথাকে পরিত্যাগ করিয়া কোথায় গেলে? তুমি তরলিকাকে জিজ্ঞাসা কর আমি তোমার নিমিত্ত কত কষ্ট ভোগ ও কত ক্লেশ সহ্য করিয়াছি। তোমার বিরহে একদিন যুগসহস্রের ন্যায় বোধ হইয়াছে। প্রসন্ন হও, একবার আমার কথায় উত্তর দাও। আমি লজ্জা, ভয়, কুলে জলাঞ্জলি দিয়া তোমার শরণাপন্ন হইতে আসিয়াছি, তুমি রক্ষা না করিলে