য়া ঘট ভীতর চন্দ্রসূর হৈঁ য়াঁহী মে নৌলখতারা—আমারই মধ্যে চন্দ্রসূর্য, আমারই মধ্যে নব লক্ষ তারা প্রকাশিত।
—কবীর
আজি যত তারা তব আকাশে, সবে মোর প্রাণ ভরি প্রকাশে।
—রবীন্দ্রনাথ
যাবহী মূরত বীচ অমূরত, মুরতকী বলিহারী—সকল মুর্তিরই মধ্যে অমূর্ত; বলিহারি যাই সকল মূর্তির।
—কবীর
আমি রূপসাগরে ডুব দিয়েছি অরূপ রতন আশা করি।
—রবীন্দ্রনাথ
এইরূপে দেখা যাইবে যে ইঁহাদের গানের ভিতরকার তত্ত্বটিই এই যে, বিশ্বকে কোথাও বাদ দেওয়া নয়, রূপকে কোথাও অস্বীকার করা নয়, কিন্তু আত্মার আনন্দের দ্বারা সমস্তকে পূর্ণ করিয়া গ্রহণ করা। আশ্চর্য ইঁহাদের উপলব্ধি, পরিপূর্ণ ইঁহাদের আনন্দোদ্বোধন এবং রসানুভূতি—এমন আশ্চর্য ভক্তিকবিতা কোনো দেশে আছে কি না সন্দেহ।
কবি য়েট্স্ কেন, ইউরোপীয় কোনো ভাবুকই আজ পর্যন্ত ভারতবর্ষের অধ্যাত্মসাধনার মধ্যে এই মধুর উৎসটির সংবাদ পান নাই। তাঁহারা সম্প্রতি রবীন্দ্রনাথের সংগীত পাইয়াই মুগ্ধ হইয়া গিয়াছেন এবং এক নূতন জ্যোতিষ্ক আবিষ্কারের যেমন আনন্দ তেমনি এক আনন্দে মাতিয়া উঠিয়াছেন। কিন্তু যে মানিক তাঁহাদের হাতে গিয়া পড়িয়াছে সে যে, একটি আধটি নয়, ভারতবর্ষের ভাবসমুদ্রের তলায় সে যে কত যুগযুগান্তর হইতে কত বিচিত্র রূপে সঞ্চিত হইয়া আছে, সে খবর যেদিন প্রকাশ হইয়া পড়িবে সেদিন বিশ্বসাহিত্যের ঐকতানসংগীতে এক নূতন সুরের আবির্ভাব ঘটিবে। হয়তো ঐকতানসংগীত যাহার অভাবে সম্পূর্ণ হইতে পারিতেছে না সেই সব মেলানো সব বেসুর-ডোবানো সুরই আসিয়া সকল বিচ্ছিন্ন গীতকে মিলিত করিয়া সকল মানবকে এক আনন্দসভায় আহ্বান করিবে। সেদিন দূরে নাই। বিবাহের প্রথম বাঁশিটি বাজিয়াছে—ঐ একটি সানাইয়ের করুণমধুর রাগিণী। পূর্বগগনকে