বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১০২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০১

গীতাঞ্জলি

গীতাঞ্জলি পশ্চিমের সাহিত্যের অরণ্যে দাবানলের মতো গিয়া পড়িয়াছে, এ সংবাদ যখন আমরা প্রথম পাই তখন এই ঘটনার আকস্মিকতা আমাদিগকে চমৎকৃত করিয়া দিয়াছিল। রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলিকে তাঁহার শ্রেষ্ঠ কাব্য বলিয়া আমাদের মনে হয় নাই, সুতরাং তাহাকে লইয়া এতটা মাতামাতির ব্যাপার কেন হইল, তাহার কারণটা আমরা ঠিকমত বাহির করিতে পারি নাই।

 অবশ্য রবীন্দ্রনাথের ইংরেজি গীতাঞ্জলি যে কেবলমাত্র বাংলা গীতাঞ্জলির অনুবাদ নয়, আমাদের মধ্যে অনেকেই তাহা জানিতেন না। তাহাতে পাঁচ সাজির ফুল একত্র করা হইয়াছিল। নৈবেদ্যের অনেক ভালো ভালো কবিতা, খেয়ার বহু কবিতা, গীতাঞ্জলির গান এবং গীতিমাল্যেরও প্রায় পনেরো-ষোলোটি গানের অনুবাদ ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে প্রকাশিত হইয়াছে। সুতরাং ইংরেজি গীতাঞ্জলি একপ্রকার রবিবাবুর শেষ বয়সের কবিতার কষ্টিপাথর।

 আমি যখন ইংলণ্ডে ছিলাম তখন অক্‌স্‌ফোর্ডে বন্ধুজনসভায় রবিবাবুর গোটাকতক বাছা বাছা কবিতার অনুবাদ পাঠ করিয়াছিলাম। আমার সৌভাগ্যক্রমে তখন রবিবাবুর নিজ কাব্যের অনুবাদচেষ্টা অসম্ভবের রাজ্যে বাষ্প মুড়ি দিয়া নিদ্রিত ছিল—সে যে সম্ভবের দেশে কোনোদিন পক্ষবিস্তার করিবে, এমন স্বপ্নও কেহ দেখে নাই। আমি তাই নিশ্চিন্তমনে একটা দুঃসাহসিক কাজ করিয়া ফেলিলাম। আমার রচনার সৌষ্ঠব বা কলাচাতুর্য—ভাষার মাধুর্য বা বিশুদ্ধি—উৎকৃষ্ট কি মাঝারি কি নিকৃষ্ট, সে দিকে কেহ লক্ষমাত্র করিল না। আমি বাংলাকাব্যের পরিচয়বহনকার্যে সেই পাদপহীন দেশে স্বচ্ছন্দে দ্রুম বলিয়া চলিয়া গেলাম।

 সোনার তরী, চিত্রা ও চৈতালির অনেকগুলি কবিতার সঙ্গে গোটা