বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গীতাঞ্জলি
১০৩

ফেলিয়াছে, সে খবর কে জানিত। ইউরোপের ইতিহাসে পড়িয়াছি, মধ্যযুগকে বলিত Dark Ages—অন্ধকারের যুগ। সেই অন্ধকারের খনি খুঁড়িয়া যে রাশি রাশি মধ্যযুগের ভক্ত সাধক ও কবিদের মণিমালা গাঁথিয়া তুলিবার প্রভূত আয়োজন চলিতেছে, তাহাই বা কে জানিত! সেণ্ট্ ফ্রান্সিস অব অ্যাসিসি, ম্যাডাম গেঁয়ো, রিচার্ড্ রোলে, জুলিয়ান অব নর্‌উইচ, ক্যাথারিন ডি সায়েনা ইত্যাদি ভক্তদের নামই লোকে ভুলিয়াছিল। এ ছাড়া কোথায় পারসিক, কোথায় ভারতবর্ষীয়, কোথায় চৈন—সকল দেশের মিষ্টিকদের যে তলব পড়িয়াছে, এ দেশে বসিয়া শেক্‌স্‌পীয়র বার্ক্ টেনিসন পড়িয়া পরীক্ষা পাস করিবার উদ্যোগে সে-সব সংবাদের কিছুই আমাদের কাছে আসিয়া হাজির হয় নাই। পশ্চিমের লোকেরা জানে যে, মহাভারতের প্রায় আড়াই লক্ষ শ্লোক এবং রামায়ণের আটচল্লিশ হাজার শ্লোক এবং যত রাজ্যের অসম্ভব অলৌকিক গাঁজাখুরি গল্পই হিন্দুসাহিত্য—কেবল উপমা অনুপ্রাস ও অলংকারের ঘটা—শব্দের চাতুর্য এবং তত্ত্বের কচ্‌কচি তাহাকে এমনি ভারাক্রান্ত করিয়া রাখিয়াছে যে, আপাদমস্তক-গহনামণ্ডিত দেহের মতো, তাহার গড়ন যে কেমন, সৌন্দর্য যে কেমন, তাহা বুঝিবারই জো নাই। আমরাও তেমনি জানি যে, পশ্চিমের সাহিত্য মানে সেই শেক্‌স্‌পীয়র এবং টেনিসন এবং তাহাদের সমালোচকবর্গ। পশ্চিমের লোকেরা যখন আমাদের গালি দেয় যে, তোমাদের কলাবোধ নাই, আমরা পাল্টা জবাব দিই যে, ‘ও বোধটা তোমাদের জন্য কায়েম করিয়া রাখিয়াছি। তোমরা তো তত্ত্বের ধার ধার’ না, ঐ বস্তুর বোধ ভিন্ন আর কোন্ বোধ তোমাদের জন্মিবে বলো?’

 যাহাই হউক, আমাদের অজ্ঞাতসারে বিধাতাপুরুষের গোপন দূতেরা হাওয়ার মুখে পশ্চিমের শিল্পসাহিত্য হইতে কলাসৌষ্ঠববোধের বীজ এ দেশে আনিয়া ফেলিয়াছিল এবং পূর্বদেশের ভারী ভারী তত্ত্বের বীজ ও সাধনার বীজ ও দেশে লইয়া যাইতেছিল। কেবল আমাদের সঙ্গে পশ্চিমের