বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১০৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৪
কাব্যপরিক্রমা

প্রভেদ ছিল এই যে, আমাদিগকে যে কারণেই হউক বাধ্য হইয়া পশ্চিমের সাহিত্য পড়িতে হইয়াছিল এবং ক্রমে ক্রমে সেই সাহিত্য হইতে রস আদায় করিয়া আমাদের নিজেদের সাহিত্যের সঙ্গে তাহার একটা সজীব সম্বন্ধ স্থাপন করিতেও হইয়াছিল। এইরূপে আমরা বিদেশী সাহিত্য হইতে যে আহার পাইয়াছিলাম তাহাকে অল্পে অল্পে জীর্ণ করিয়া আত্মসাৎ করিবার চেষ্টায় ছিলাম। কিন্তু বিদেশীরা আমাদের সাহিত্য সম্বন্ধে কিছুই জানিত না; শুধু জানিত এই যে, হিন্দুসাহিত্যে অনাবশ্যক মাল মসলা এতই অধিক যে তাহার মধ্য হইতে রস আদায় করা বিষম শক্ত। সংস্কৃত সাহিত্যের উপমার আড়ম্বরের এবং প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের অনুগ্রামের ঘটার যেটুকু রস পশ্চিমীরা চাখিয়াছিলেন, তাহাই তাঁহাদের বিতৃষ্ণা জন্মাইবার পক্ষে পর্যাপ্ত হইয়াছিল।

 সকলেই জানেন যে, ইংরেজি গীতাঞ্জলি যখন প্রথম প্রকাশিত হয় তখন, তাহা যে এক মুহূর্তেই ইংরেজ পাঠকের মন হরণ করিয়াছিল তাহা কেবল ভাবের সৌন্দর্যের জোরে নয়, ভাষার ও রচনার আশ্চর্য কলাসৌষ্ঠবের জোরে।

Have you | not heard | his si | lent steps?
He comes, | comes, | ever comes |


তোরা শুনিস নি কি শুনিস নি তার পায়ের ধ্বনি?
সে যে আসে, আসে, আসে।

গদ্যানুবাদে ছন্দের এমন দোল ইতিপূর্বে ইংরেজি সাহিত্যে কাহারো রচনায় প্রকাশ পায় নাই। হুইট্‌ম্যান মিল বাদ দিয়া গদ্যে কাব্যরচনার চেষ্টা করিয়াছিলেন, কিন্তু সে গদ্যই হইয়াছে, কাব্যের ভাষার ললিত নৃত্যগতি সে গদ্যে জাগে নাই। এড্‌ওআর্ড্ কার্পেণ্টার Towards