বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গীতাঞ্জলি
১০৭


যতই বলিস যতই করিস
যতই তারে তুলে ধরিস
ব্যগ্র হয়ে রজনী দিন
আঘাত করিস বোঁটাতে।
তোরা কেউ পারবি নে গো
পারবি নে ফুল ফোটাতে।

তাঁহাদের কাব্যরচনা ঐ বোঁটায় আঘাত করা মাত্র, আলংকারিক প্রথাকে ভাঙিবার প্রয়াস মাত্র—কিন্তু ফুল ফুটিয়াছে কোথায়? সেই ফুল ফুটিয়াছে গীতাঞ্জলিতে। সেইজন্য তাহার বাহ্য সৌষ্ঠবেই ইউরোপীয় সাহিত্যিকদের মন সর্বপ্রথমে ভূলিয়াছিল।

 আমি বলিয়াছি যে, দ্রাক্ষা হইতে মদ চোলাইয়া লইবার মতো বাস্তব সাহিত্য নিঙ্‌ড়াইয়া যেটুকু রস আদায় করিবার তাহা পূর্ণমাত্রায় আদায় করিয়া অবশেষে পশ্চিমের সাহিত্যের রসপাত্র রিক্ত হইয়া পড়িয়াছিল। গায়্‌টে, ওয়ার্ড্‌স্‌ওআর্থ্, কীট্‌স্‌, টেনিসন প্রভৃতি কবিদিগের কাব্যে এখনকার কালের মানুষের মন আর রস পাইতেছিল না। এখন নূতন সাকীর প্রয়োজন। বাস্তবলোকের রসাস্বাদন তো হইল, এবার অতীন্দ্রিয়লোকের মধু যে কেমনতর তাহা আস্বাদন করা চাই। একদল নূতন সাকী অত্যন্ত আভরণহীন, ছায়ার মতো না-যায়-ধরা না-যায়-ছোঁওয়া গোছের আধারে সেই ‘নন্দনবনমধু’ ভরিয়া আনিলেন এবং রসপিপাসুদিগকে বিতরণ করিলেন। য়েট্‌স্ প্রভৃতি কেল্‌টিক অভ্যুত্থানের কবিগণ ফ্রান্সিস টম্প্‌সন প্রভৃতি ‘মিষ্টিক’এর দল মিষ্ট রস পরিবেশনে আসর জমকাইয়া পুরাতন সাকীদিগের রসভাণ্ডারে একেবারেই কুলুপ লাগাইয়া দিলেন। এখন হইতে অতীন্দ্রিয়লোক এবং বাস্তবলোকের মধ্যে যে পর্দা ছিল