বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
কাব্যপরিক্রমা

তাহারই ব্যাপ্তি, তাহারই বহিঃপ্রকাশ— এতবড়ো কথাটা না বলিলে তাহার চলে না। ‘আমার’ বলিলে সেগুলি বাহিরের বিষয়সম্পত্তির মতো মনে হয়, কিন্তু ‘আমি’ বলিলে আর তো কোনো কথা নাই। তখন তাহাকে বিভক্ত করিবে কে, খণ্ডিত করিবে কে?

 সমস্তকে যে নিজের চেতনার দ্বারা পরিব্যাপ্ত করিয়া দেখা চাই—এ ভাব এ যুগের মানুষের মধ্যে ফুটিল কেমন করিয়া? ফুটিল, যতই বিদ্যাদের পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ প্রশস্ততর হইতে লাগিল, বিজ্ঞানের সঙ্গে দর্শন, দর্শনের সঙ্গে শিল্পসাহিত্য যতই ক্রমশ সাহচর্যে ও ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে দীক্ষিত হইতে লাগিল। প্রত্যেক বিদ্যার পন্থা, প্রকরণপদ্ধতি এবং আলোচ্য বিষয় স্বতন্ত্র হইলেও তাহাদের কাজ একই। মানুষের মনের ক্ষেত্রকে, চেতনার পরিধিকেই তাহারা বিস্তৃততর করিয়া দিতেছে। সুতরাং তাহারা যে যাহাই অন্বেষণ করুক এবং যে যাহাই সিদ্ধান্ত স্থির করুক, তাহারা মানুষের মনকেই নানা দিক দিয়া নাড়া দিয়া পরস্পরের সহযোগিতা করিতেছে, এবং সেজন্য প্রত্যেক বিষয়েই যে সেই মনঃশক্তির বল ও প্রসারই বাড়িয়া যাইতেছে, এ বিষয়ে আর সন্দেহ নাই।

 রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনদেবতা’র ভাবের অনেক সাক্ষ্য যে আধুনিক বিজ্ঞানে ও দর্শনে পাওয়া যায়, অর্থাৎ এ আইডিয়াটা যে আধুনিক কালেরই একটি বিশেষ জিনিস, তাহাই দেখাইবার জন্য আজ আমি এই প্রবন্ধের অবতারণা করিয়াছি। আমি জানি যে, কবিতার মধ্যে দর্শনবিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুসরণ করার বিশেষ কোনো সার্থকতা নাই। কারণ, কবিতা তো তত্ত্ব নয়, সে প্রকাশ। কবিতা তত্ত্বকে তো প্রমাণ করে না, সে তত্ত্বকে রূপ দান করে। সব সময় যে তাও করে তাহা নহে— তত্ত্ব হোক বা না হোক, একটা—কিছু যে—কোনো রসবস্তুকে সে আপনার কল্পনার ও ভাবের ছাঁচে ফেলিয়া একটি সুষমাময় রূপে গড়িয়া তুলিতে পারিলেই খুশি হয়। সে ভাবকে চায় না, অভাবনীয়কে চায়; নির্দিষ্ট