বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১১২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গীতাঞ্জলি
১১১

তাঁহারই ললাটে জয়মাল্য বাঁধিয়া দিয়াছে এবং কাব্যের কুঞ্জবনে তাঁহাকে রত্ন-আসনে উপবেশন করাইয়াছে।

 রবীন্দ্রনাথের জগৎও ‘flowing, changing world’―চিরবহমান চিরপরিবর্তমান জগৎ—‘খসে যাবার, ভেসে যাবার, ভাঙবার’ জগৎ।—

পাগল করা গানের তানে
ধায় যে কোথা কেই-বা জানে—
চায় না ফিরে পিছন পানে
রয় না বাঁধা বন্ধে রে
লুটে যাবার ছুটে যাবার চলবারই আনন্দে রে।

 এই জগৎ যেমন বহমান চলমান, এই জগতের যিনি স্বামী তাঁহাকেও কবি নিশ্চল নির্বিকল্প নির্‌গুণ ঈশ্বর করিয়া ভাবেন নাই। লোকলোকান্তর-জন্মজন্মান্তরের মধ্য দিয়া জীব-অভিব্যক্তির যে যাত্রাপথ বাহিয়া আমাদের প্রত্যেকের জীবনখানি পূর্ণ পূর্ণতর হইয়া চলিয়াছে, সেই পথেই যিনি সকল পথের অবসান, যিনি পরম পরিণাম, তিনি সঙ্গীরূপে পথিকরূপে ক্ষণে ক্ষণে দেখা দিতেছেন। কবির জীবনে জীবনে এই লীলা করিবার জন্য তিনিও বাহির হইয়াছেন। ‘আমার মিলন লাগি তুমি আসছ কবে থেকে?’— সে কোন্ অনাদিকাল হইতে যে তিনি বাহির হইয়াছেন তাহা কে জানে। সেইজন্যই তো এই পরিচিত জগদ্‌দৃশ্যের মধ্যে সেই অদৃশ্যের ছায়া পড়ে—

‘O world invisible, we view thee!’

 একদিন ভরা শ্রাবণের প্রভাতে যখন রাত্রির মতো সমস্ত নিস্তব্ধ, যখন কাননভূমি কূজনহীন এবং ঘরে ঘরে সকল দ্বার রুদ্ধ, তখন সেই নিরুদ্ধ নিস্তব্ধ বর্ষা প্রভাতের জনশূন্য পথে চকিতের মতো সেই অনাদিকালযাত্রী একক পথিকের ক্ষণিক দর্শন মিলিয়া যায়—