বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১১৩

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১২
কাব্যপরিক্রমা

কূজনহীন কাননভূমি,
দুয়ার দেওয়া সকল ঘরে,
একেলা কোন্ পথিক তুমি
পথিকহীন পথের ’পরে।

 এমনি করিয়াই ক্ষণে ক্ষণে কত দৃশ্যে কত গন্ধে কত রসে সেই অদৃশ্য অনির্বচনীয় পরম রসকে বারম্বার পাওয়া গিয়াছে—

বিশ্বের সবার সাথে হে বিশ্ব-রাজন,
অজ্ঞাতে আসিতে হাসি আমার অন্তরে
কত শুভদিনে; কত মুহূর্তের ’পরে
অসীমের চিহ্ন লিখে গেছ।

 তবেই দেখা যাইতেছে যে, ঈশ্বরের সঙ্গে জগতের, পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার ঐক্য স্থির ও ধ্রুব হইয়া আছে এবং ইহাদের মধ্যে বস্তুতঃই কোনো দ্বৈত নাই। কবির কাছে এই বৈদান্তিক মতের কোনো অর্থ নাই। কারণ, জগতের সমস্ত রূপরূপান্তর এবং মানবজীবনের সমস্ত পরিবর্তন-পরম্পরাকে ‘মায়া’ বলিয়া উড়াইয়া দিয়া একটি নিশ্চল শূন্য ‘এক’কে একমাত্র করিবার একান্ত চেষ্টা করিলেও, মায়া কোনোমতেই দূর হইবার নহে। ঈশ্বরের সঙ্গে জগতের এবং ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের মিলনের মধ্যে যে একটি চিরবিরহ আছে, এই মায়াই যে উভয়ের মধ্যে সেই বিরহের ব্যবধান রচনা করিয়াছে। ইহাতেই তো মিলনের সার্থকতা। নহিলে মিলন যে আছে এ কথাটাই কে অনুভব করিত?

হেরি অহরহ তোমারি বিরহ
ভুবনে ভুবনে রাজে হে—
কত রূপ ধ’রে কাননে ভূধরে
আকাশে সাগরে সাজে হে।