বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৬
কাব্যপরিক্রমা

আঘাত ভিন্ন আমাদের জীবনের পূজা তাঁহার দিকে উচ্ছ্বসিত হয় না। কবি তাই বলিয়াছেন, ‘আমার জীবনে তব সেবা তাই বেদনার উপহারে।’ এই ব্যথার গানই তাঁহার পূজার শ্রেষ্ঠ অঞ্জলি।

 ২ ‘সকল অহংকার হে আমার ডুবাও চোখের জলে।’ অহংকারের বাঁধন যতক্ষণ প্রবল ততক্ষণ বিশ্বের সকলের সঙ্গে এবং ভগবানের সঙ্গে মিলন হইতেই পারে না—কারণ অহংকার ‘সকল সুরকে ছাপিয়ে দিয়ে আপনাকে যে বাজাতে চায়।’

 গীতিমাল্যের একটি গান আছে—

বেসুর বাজে রে,
আর কোথা নয়, কেবল তোরই
আপন-মাঝে রে!

এই অহংকারের মধ্যেই সমস্ত বেসুর—এইখানে বিশ্ব প্রতিদিন প্রতিহত, আনন্দ সংকীর্ণ, প্রেম সংকুচিত। এই অহংটিকে তাঁহার পায়ে বিসর্জন না করা পর্যন্ত আমাদের শান্তি নাই।

 ৩ এ দেশের ‘সবার পিছে সবার নীচে, সবহারাদের মাঝে’ অপমানের তলায় ভগবানের চরণ নামিয়াছে—সেইখানে তাঁহাকে প্রণাম না করিলে তাঁহাকে প্রণাম করাই হইবে না। সেইখানে তাহাদের সঙ্গে এক না হইলে ‘মৃত্যুমাঝে হতে হবে চিতাভস্মে সবার সমান’—সেই বড়ো যাত্রায়, সেই-সকল মানুষের মধ্যে, ভিড়ের মধ্যে কর্মযোগে তাঁহার সঙ্গে মিলিত হইয়া সকল কর্ম করিতে হইবে, তবেই মুক্তি। কারণ—

তিনি গেছেন যেথায় মাটি ভেঙে
করছে চাষা চাষ,
পাথর ভেঙে কাটছে যেথায় পথ,
খাটছে বারো মাস।