গীতিমাল্য
ইংরেজি গীতাঞ্জলির যতগুলি সমালোচনা বিলাতি কাগজে পড়িয়াছি তাহার অধিকাংশেরই মধ্যে রবীন্দ্রনাথকে মিস্টিক বা মরমী কবি মনে করার জন্য মিষ্টিক সাহিত্যের সহিত তাঁহার কাব্যের সৌসাদৃশ্য দেখাইবার চেষ্টা হইয়াছে। বিলাতি সমালোচকেরা খৃস্টান ভক্তিসাহিত্যের সঙ্গে গীতাঞ্জলির তুলনা করিয়াছেন; কেহ কেহ বা হিব্রু সামগাথা, ডেভিড আইজায়া প্রভৃতি ভক্তদের বাণীর সহিত তাঁহার কাব্যের সারূপ্য ঘোষণা করিয়াছেন। জলালুদ্দিন রুমি প্রভৃতি দু-একজন সুফি কবির নাম পশ্চিমে বিখ্যাত হইয়াছে; সুফি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ পাঠ করিয়া কোনো কোনো সমালোচক গীতাঞ্জলির প্রসঙ্গে সুফি কবিদের রচনা উদ্ধৃত করিবার প্রলোভন সম্বরণ করিতে পারেন নাই।
রবীন্দ্রনাথকে মিষ্টিক উপাধিতে ভূষিত করা ও মিষ্টিক সাহিত্যের সঙ্গে তাঁহার কাব্যের সৌসাদৃশ্য দেখাইবার চেষ্টা করাটা ইংরেজ সমালোচকের পক্ষে কিছুমাত্র বিচিত্র হয় নাই। এক সময় ছিল যখন নাটক লিখিলেই লোকে শেক্স্পীয়রের নাটকের সঙ্গে তুলনা করিত। এখন দেখিতে পাইয়াছে যে, শেক্স্পীয়রের নাটকই নাটকের একমাত্র রূপ নয়। শেলির প্রমিথিউস আন্বাউণ্ড্ বা চেঞ্চি-ও নাটক; ব্রাউনিঙের প্যারাসেলসাস্ বা পিপা পাসেস্ও নাটক; আবার য়েট্সের শ্যাডোয়ি ওয়াটার্স্, মেটারলিঙ্কের ব্লু বার্ড, বার্নার্ড শ’র ম্যান অ্যাণ্ড সুপার্ম্যান এবং ইব্সেনের পিয়ার গিণ্ট্-ও নাটক। নাটক ও খণ্ডকাব্যের রূপ ক্রমশই বিচিত্র হইতে বিচিত্রতর হইতেছে। অধ্যাত্মকাব্যের রূপও যে খৃস্টান ভক্তবাণী বা হিব্রু সামগাথা হইতে স্বতন্ত্র হইতে পারে, এ ধারণা ইউরোপীয়দিগের মনে এখনও উজ্জ্বল হইয়া উঠে নাই। কারণ, খৃস্টানধর্ম ছাড়া জগতে আর কোথাও যে ভক্তিধর্ম থাকিতে পারে, সে দেশের নানাশাস্ত্রবিদ্ পণ্ডিত