বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১২৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গীতিমাল্য
১২৭

সঙ্গে এই নূতন ভক্তিসংগীতের প্রভেদ ঘটিয়াছে। এমন ঘটনা জগতে আর কোথাও ঘটিয়াছে কি না জানি না। কারণ, ধর্ম চিরকালই জীবনের অন্যান্য বৈচিত্র্য হইতে আপনাকে সরাইয়া লইয়া সযত্নে সন্তর্পণে আপনাকে এক কোণে রক্ষা করিবার চেষ্টা করিয়াছে। জীবনের গতি এক দিকে, ধর্মের গতি অন্য দিকে—জীবনের গতি প্রবৃত্তির দিকে, ধর্মের গতি নিবৃত্তির দিকে। সেইজন্য কবি ও ভগবদ্‌ভক্ত এ দুয়ের সম্মেলন দেখা যায় নাই। ভগবদ্‌ভক্ত হয়তো কবি হইয়াছেন অর্থাৎ ভক্তির গান লিখিয়াছেন—কিন্তু জীবনের অন্যান্য রসের প্রকাশ তাঁহার মধ্যে ফুটিয়াছে কোথায়? পক্ষান্তরে কোনো কবি যে ভক্তির গান লিখিয়া অমর হইয়াছেন তাহারও পরিচয় পাওয়া যায় না। কবীর বা দাদূ বা আর-কোনো ভক্তকবি রবীন্দ্রনাথের মতো প্রণয়কবিতা বা প্রণয়সংগীত লিখিয়াছেন ইহা কোনোদিন যদি কোনো ঐতিহাসিক বা প্রত্নতত্ত্ববিদ্ পণ্ডিত প্রমাণ করিয়াও দেন তাহা হইলেও আমরা বিশ্বাস করিতে পারিব না। কোনো পুরানো পুঁথির মধ্যে কবীরের লিখিত এমন ছত্র বাহির হওয়া অসম্ভব—

ভালোবেসে, সখি, নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখিয়ো
তোমার মনের মন্দিরে।

কিম্বা—

সখি, প্রতিদিন হায়, এসে ফিরে যায় কে?
তারে আমার মাথার একটি কুসুম দে।

 জীবনের সকল রস, সকল অভিজ্ঞতার এমন অবাধ এমন আশ্চর্য প্রকাশ জগতের অল্প কবিরই মধ্যে দেখা গিয়াছে। পরিপূর্ণ জীবনের গান যিনি গাহিয়াছেন তিনি যখন অধ্যাত্ম-উপলব্ধির গান গাহেন তখন এসরাজের মূল তারের ধ্বনির সঙ্গে সঙ্গে তাহার পাশাপাশি যে তারগুলি থাকে তাহারা যেমন একই অনুরণনে ঝংকৃত হইতে থাকে এবং মূল তারের সংগীতকে গভীরতর করিয়া দেয়, সেইরূপ অধ্যাত্ম-উপলব্ধির