সুরের সঙ্গে জীবনের অন্যান্য রসোপলব্ধির সুর মিলিত হইয়া এক অপূর্ব অনির্বচনীয়তার সৃষ্টি করে। এই জন্য রবীন্দ্রনাথকে যে-সকল বিলাতি সমালোচক খৃস্টান ভক্তকবিদের সঙ্গে বা হিব্রু প্রফেট্দের সঙ্গে তুলনা করিয়াছেন তাঁহাদের তুলনা যেমন সত্য হয় নাই, সেইরূপ যাঁহারা এতদ্দেশীয় ভক্ত কবিদের সঙ্গে তাঁহার তুলনা করেন তাঁহাদেরও তুলনা ঠিক হয় বলিয়া মনে করি না। বরং আধুনিক কালের যে-সকল কবি জীবনের সকল বিচিত্রতার রসানুভূতিকে অধ্যাত্ম রসবোধের মধ্যে বিলীন করিয়া দিতে চান সেই-সকল কবিদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ তুলনীয় হইতে পারেন। ওয়াল্ট্ হুইট্ম্যান, রবার্ট্ ব্রাউনিং, এড্ওআর্ড্ কার্পেণ্টার, উইলিয়ম ব্লেক, ফ্রান্সিস টম্প্সন প্রভৃতি পাশ্চাত্য কবিদের কাব্যজীবন ধারার সঙ্গে বরং রবীন্দ্রনাথের কাব্যজীবনধারার তুলনা করিয়া অধ্যাত্মরসবোধের বিকাশ কোন্ কবির মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক ঘটিয়াছে তাহা আলোচনা করিয়া দেখা যাইতে পারে। ব্রাউনিঙের শেষবয়সের ধর্মকাব্য Ferishtah’s Fancies, হুইট্ম্যানের Sands at Seventy, কার্পেণ্টারের Towards Democracy এবং টম্প্সনের The Hound of Heaven প্রভৃতি কাব্যের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি বা গীতিমাল্যের তুলনা করিলে এই শ্রেণীর ধর্মকাব্যে এই-সকল কবির মধ্যে তাঁহার শ্রেষ্ঠত্ব সহজেই অনুমিত হইবে।
আমার হাতের কাছে এই কাব্যগুলি নাই—কেবল টম্প্সনের The Hound of Heaven এর শেষ কয়েক ছত্র উদ্ধৃত করিতেছি—
‘All which I took from thee I did but take,
Not for thy harms,
But just that thou might’st seek it in My arms,
All which thy child’s mistake
Fancies as lost, I have stored for thee at home;
Rise, clasp my hand, and come.’