এখন প্রস্তাবিত বিষয়ে অবতরণ করা যাক।
একসময়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁহার এক পত্রে লিখিয়াছিলেন—
‘বহুযুগ পূর্বে যখন তরুণী পৃথিবী সমুদ্র—স্নান থেকে সবে মাথা তুলে উঠে তখনকার নবীন সূর্যকে বন্দনা করছেন, তখন আমি এই পৃথিবীর নূতন মাটিতে কোথা থেকে এক প্রথম জীবনোচ্ছ্বাসে গাছ হয়ে পল্লবিত হয়ে উঠেছিলুম। .. তখন আমি এই পৃথিবীতে আমার সমস্ত সর্বাঙ্গ দিয়ে প্রথম সূর্যালোক পান করেছিলুম, নবশিশুর মতো একটা অন্ধজীবনের পুলকে নীলাম্বরতলে আন্দোলিত হয়ে উঠেছিলুম ... মূঢ় আনন্দে আমার ফুল ফুটত এবং নবপল্লব উদ্গগত হত। যখন ঘনঘটা করে বর্ষার মেঘ উঠত তখন তার ঘনশ্যাম ছায়া আমার সমস্ত পল্লবকে একটি পরিচিত করতলের মতো স্পর্শ করত। তার পরেও নব নব যুগে এই পৃথিবীর মাটিতে আমি জন্মেছি। আমরা দুজনে একলা মুখোমুখি করে বসলেই আমাদের সেই বহুকালের পরিচয় যেন অল্পে অল্পে মনে পড়ে।’
সকলেই জানেন যে, কবির ‘জীবনদেবতা’—শীর্ষক কবিতাগুলিতে শুধু নয়, ‘বসুন্ধরা’ ‘প্রবাসী’ প্রভৃতি আরও অনেক কবিতায়, এই পত্রে যাহা ব্যক্ত হইয়াছে নেই ভাবের কথাই পাওয়া যায়। কবি বলেন যে, আমাদের এই বর্তমান জীবনের মধ্যে একটি চিরন্তন জীবন আছে। আমার যে জীবন কত যুগ পূর্ব হইতে কত বিচিত্র জীবনপর্যায়ের ভিতর দিয়া আমার এই বর্তমানতায় আসিয়া আজ পৌছিয়াছে, আমার সেই জীবনই আমার অন্তর্নিহিত চিরন্তন জীবন। কবি তাহারই আশ্বাসে পূর্ণ হইয়া বলেন, ‘যুগে যুগে আমি ছিনু তৃণে জ্বলে’ এবং ‘স্থলে জলে আমি হাজার বাঁধনে বাঁধা যে গিঠাতে গিঠাতে’। এবং এই ক্ষণিক জীবনের স্বল্পপরিসর চেতনার মধ্যে সেইজন্যই তিনি বিশ্বচেতনাকে এক একসময় অনুভব করিয়া থাকেন।
ডারুইনের অভিব্যক্তিবাদে বলে যে, এক আদিম জীবকোষ হইতে