ভেবেছিল চির কাঙাল সে এই ভুবনে,
কাঙাল মরণে জীবনে।
ওগো মহারাজা, বড়ো ভয়ে ভয়ে
দিনশেষে এল তোমার আলয়ে,
আধেক আসনে তারে ডেকে লয়ে
নিজ মালা দিয়ে বরিলে।
এই উদ্ধৃত ছোটো গানটির মধ্যে অধ্যাত্মসাধনের প্রথম অবস্থায় ত্যাগের রিক্ততার সুগভীর বেদনা এবং শেষ অবস্থায় ভগবানকে অনন্যশরণ জানিয়া আশ্রয় করিবামাত্র মিলনের অপূর্ব আনন্দের সমস্ত ইতিহাস কী একটি সংহতরূপ লাভ করিয়াছে! টম্প্সন The Hound of Heaven’এ এই ইতিহাসকেই কত ফলাও করিয়া স্তরে স্তরে উদ্ঘাটন করিয়া প্রকাশ করিবার চেষ্টা করিয়াছেন—তাহা আশ্চর্য হইলেও গীতিমাল্যের এই গানের কলাসংযম তাহাতে লক্ষিত হয় না।
২
গীতিমাল্যের গোড়ার দিকে নয়টি কবিতা আছে। এবং ইংলণ্ডে যাত্রা করিবার পূর্বে এই একই সময়ে রচিত গোটা-পনেরো গানও আছে। রবীন্দ্রনাথের জীবনের প্রত্যেক অবস্থার সঙ্গে সেই সেই অবস্থায় রচিত তাঁহার কাব্যের এমন অচ্ছেদ্য সম্বন্ধ যে, তাঁহার কাব্যকে সম্পূর্ণভাবে বুঝিবার জন্য তাঁহার জীবনের কথা কিছু কিছু জানা দরকার হয়। পৃথিবীতে বোধ হয় আর কোনো কবির জীবন নিজ কাব্যের ধারাকে এমন একান্তভাবে অনুসরণ করিয়া চলে নাই। কবির জীবনের বড়ো বড়ো পরিবর্তনগুলি প্রথমে কাব্যের মধ্য দিয়া নিগূঢ় ইঙ্গিতমাত্রে প্রতিফলিত হইয়া শেষে জীবনের ঘটনা রূপে প্রকাশ পাইয়াছে। পাশ্চাত্যদেশে অধুনা মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় subliminal consciousness বা