ছিলেন। কেন যাইতেছেন, সেখানে গিয়া কী উদ্দেশ্য সাধিত হইবে—এ-সকল কোনো প্রশ্নেরই জবাব দেওয়া তাঁহার পক্ষে শক্ত ছিল। যাত্রার যাহা একমাত্র কারণ তাহা তো কবিতায় বহুপূর্বেই তিনি প্রকাশ করিয়াছেন—
আমি চঞ্চল হে,
আমি সুদূরের পিয়াসী!
কিন্তু এবারে সে কারণ ছিল না। এবারে কোনো কারণ না জানিয়াও তিনি অনুভব করিতেছিলেন যে, এ যাত্রা তাঁহার তীর্থযাত্রার মতো—এ যাত্রা হইতে তিনি শূন্য হাতে ফিরিবেন না। এবার মহামানবতীর্থের যে শক্তিসমুদ্রমন্থনজাত অমৃত তিনি সংগ্রহ করিয়া আনিবেন তাহাতে তাঁহার কাব্যের ও জীবনের মহা অভিষেক হইবে।
তীর্থযাত্রার জন্য এই ব্যাকুলতা যখন পূর্ণমাত্রায় মনকে অধিকার করিয়া আছে তখন হঠাৎ স্নায়ুদৌর্বল্যপীড়ায় আক্রান্ত হইয়া কবির যাত্রায় ব্যাঘাত পড়িল। কবি শিলাইদহ চলিয়া গেলেন। ৪ হইতে ২১ সংখ্যা-চিহ্নিত যে কবিতা ও গানগুলি গীতিমাল্যে স্থান পাইয়াছে তাহারা সেখানে ‘আমের বোলের গন্ধে অবশ’ মধুমাসে রুগ্ন অবস্থায় রচিত। তখন কাজকর্ম দেখাসাক্ষাৎ সমস্তই বারণ হইয়া গিয়াছে—
কোলাহল তো বারণ হল,
এবার কথা কানে কানে।
এখন হবে প্রাণের আলাপ
কেবলমাত্র গানে গানে।
তাই বলিতেছিলাম যে, বাহির হইতে দেখিতে গেলে এই এক সামান্য ঘটনার আঘাতে এই নূতন ‘প্রাণের আলাপে’র সূত্রপাত হইল।
কিন্তু এই কানে-কানে কথার রহস্যনিবিড়তাই যে এই সময়ের কবিতা ও গানগুলির বিশেষত্ব তাহা নহে। পৃথিবীর গভীরতম স্তরে যে উৎস