বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গীতিমাল্য
১৩৩

জমাট হইয়া আছে তাহার পূর্ণতার তো কোনো অভাব নাই; তথাপি বাহির হইবার বেদনায় তাহার সমস্ত অন্তর যেন ক্রন্দন করিতে থাকে। সেইরূপ এই কানে-কানে কথা যখন সবচেয়ে বেশি জমিয়াছে, যখন বিশ্বের একেবারে মর্মস্থলে চোখ মেলিয়া চাহিয়া দেখিবার অবকাশ ঘটিয়াছে, ঠিক সেই সময়েই তাহাতেই চরম পরিতৃপ্তি হইল না—এই কথাই বারবার নানারকম সুরে বাজিতে লাগিল—

অনেক কালের যাত্রা আমার
অনেক দূরের পথে।···
সবার চেয়ে কাছে আসা
সবার চেয়ে দূর।
বড়ো কঠিন সাধনা, যার
বড়ো সহজ সুর।
পরের দ্বারে ফিরে, শেষে
আসে পথিক আপন দেশে—
বাহির ভুবন ঘুরে মেলে
অন্তরের ঠাকুর।

···


এবার ভাসিয়ে দিতে হবে আমার
এই তরী।

···


এমনি ক’রে ঘুরিব দূরে বাহিরে
আর তো গতি নাহি রে মোর নাহি রে।

অথচ কবিতাগুলির মধ্যে এই সুর নাই। তাহাদের মধ্যে পরিচিততম অভ্যস্ততম বস্তুর আবরণ উন্মোচিত হইয়া