সকল জানার বুকের মাঝে
দাঁড়িয়ে ছিল অজানা যে
সেই অজানাকে অত্যন্ত কাছাকাছি, অত্যন্ত প্রত্যক্ষ রূপে উপলব্ধির কথা আছে। ৯-সংখ্যক কবিতায় কবি বলিতেছেন যে, এই নদীর পারে এই বনের ধারে যে সেই ‘অজানা’ ছিলেন, সে কথা তো কেহই তাঁহাকে বলে নাই। কখনও কখনও ফুলের বাসে, দক্ষিণে হাওয়ায়, পাতার কাঁপনে মনে হইত যেন অত্যন্ত কাছেই তিনি। কিন্তু আজ এই ‘নয়নঅবগাহনি’ স্নিগ্ধ শ্যামল ছায়ায় সেই বন্ধুর এ কী হাসি, এ কী নীরব চাহনি দেখা দিল! ‘লক্ষ তারের বিশ্ববীণা’ এই নীরবতায় লীন হইয়া এইখানে আজ সুর কুড়াইতেছে, ‘সপ্তলোকের আলোকধারা’ এই ছায়াতে আজ লুপ্ত হইয়া যাইতেছে! ১১-সংখ্যক কবিতাটি আরও চমৎকার! বিশ্বের একেবারে অন্তরতম কেন্দ্রস্থলে সমস্ত জীবনের সুদীর্ঘ পথখানি গিয়া মিলিয়াছে এবং সেই নিভৃত কেন্দ্রলোকটির গোপন দ্বার সমস্ত ‘চরাচরের হিয়ার কাছে’ই আছে। এই জীবন পথিকের দীর্ঘ পথযাত্রার সেইখানেই অবসান। সেখানে কে আছে? যে আছে—
অপূর্ব তার চোখের চাওয়া,
অপূর্ব তার গায়ের হাওয়া,
অপূর্ব তার আসা যাওয়া গোপনে।
সেই ‘জগৎ-জোড়া ঘর’টিতে কেবল দুটিমাত্র লোকের ঠাঁই হয়—সেই বিশ্বপদ্মের কেন্দ্রগত মধুকোষে যে অপূর্ব লোকটি বসিয়া আছেন তাঁহার এবং সেই কমলমধুপিয়াসী যে চিত্তভ্রমর তাহার উদ্দেশে ঘুরিয়া বেড়াইতেছে তাহার—কেবলমাত্র এই দুজনার। এই কবিতাগুলির প্রত্যেকটিতেই সসীম-অসীমের, সরূপ-অরূপের, জীব ও ভগবানের নিত্য প্রেমলীলার উপলব্ধির নিবিড় আনন্দ প্রকাশ পাইয়াছে। কিন্তু এ লীলা বিশ্বের সেই নিভৃততম অন্তরতম কেন্দ্রটিতে উদ্যাপিত। এ লীলা বিশ্বের