বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গীতিমাল্য
১৩৯

তত্ত্বরূপে নয়, সেই ‘human voice’-রূপে ব্যক্ত হইয়াছে। এই গানেই ‘তোমার সিংহাসনের আসন হতে এলে তুমি নেমে’ এই গান সত্য হয়। এ গানে তত্ত্বের কথা নাই, সাধনার কথা নাই। এ কেবল সেই একটি ডাক—সেই একটিমাত্র ডাক এমন পরিপূর্ণ, এমন গভীর, এমন সরল ষে তাহাতে এই আশ্বাস সুনিশ্চিতরূপে পাওয়া যায়—

আমার  সকল কাঁটা ধন্য করে
ফুটবে গো ফুল ফুটবে।
আমার  সকল ব্যথা রঙিন হয়ে
গোলাপ হয়ে উঠবে।

গীতিমাল্যে অধ্যাত্মসাধনার সংশয়-সংগ্রাম-বেদনা-অপেক্ষা-লীলায়িত বিচিত্র অবস্থা ও অনুভাবের গান যথেষ্ট নাই, এ কথা আমি পূর্বেই বলিয়া আসিয়াছি। গীতাঞ্জলি হইতে গীতিমাল্যের এইখানেই শ্রেষ্ঠত্ব এ কথাও আমি বলিয়াছি।

 বাস্তবিক গীতিমাল্যে কবি যেখানেই তাঁহার ভিতরকার সাধনার কথা ব্যক্ত করিয়াছেন সেখানেই তিনি সাধনার পথ সম্বন্ধে সংশয় প্রকাশ করিয়াছেন। আমাদের দেশে অধ্যাত্মসাধনার যে-সকল মার্গ নির্দিষ্ট আছে সে-সকল কোনো পন্থারই তিনি পন্থী নহেন। বিবেক-বৈরাগ্য বা শমদমাদিসাধন, শ্রবণ-মনন-নিদিধ্যাসন প্রভৃতি যোগসাধন, বৈষ্ণবের শান্তদাস্যাদি পঞ্চরসের সাধন—এ কোনো সাধন প্রণালীই তাঁহার জীবনের পক্ষে উপযোগী নয়। তাঁহার পথ তাঁহার আপনার পথ—কোনো শাস্ত্র বা গুরুর দ্বারা সে পথ নির্দেশিত হয় নাই।

 ইউরোপীয় মিষ্টিক সাধকদিগের পন্থা প্রণালী বা সাধনার ভিন্ন ভিন্ন অবস্থার সঙ্গেও তাঁহার পন্থার বা সাধনার অবস্থার কোনো মিল নাই।