প্রথমত তাঁহারা যাহাকে conversion বলেন, অর্থাৎ চৈতন্যের অকস্মাৎ উদ্বোধন এবং ধর্মজীবনের জন্য ব্যাকুলতা; তার পর যাহাকে purgative stage বলেন, অর্থাৎ সংসারবৈরাগ্য পাপবোধ দীনতা এবং আত্মত্যাগ; তার পর যাহাকে illuminative stage বলেন, যখন ঈশ্বরের সহবাসজনিত ভূমানন্দ সাধকের চিত্তকে উদ্বেলিত করিয়া তোলে, যখন বহির্লোকে ‘ঊর্ধ্ব পূর্ণ অধঃ পূর্ণ পূর্ণ সর্বচরাচর’ এবং চিদ্লোকে নানা visions বা দর্শন স্বেদকম্পপুলক প্রভৃতি রসভাবকে উদ্রিক্ত করে; এবং সর্বশেষ চরম অবস্থায় যাহাকে unitive stage বলেন, জীবাত্মা-পরমাত্মায় অচ্ছেদ্য একাত্মতা—সে-সকল অবস্থা এবং সে-সকল অবস্থালাভের জন্য সাধনপ্রণালী রবীন্দ্রনাথের ধর্মজীবনক্ষেত্রে মেলে কি না দেখিতে গেলে ব্যর্থমনোরথ হইয়া ফিরিতে হইবে।
রবীন্দ্রনাথের সাধনপন্থা এদেশীয় বা বিদেশীয় কোনো সাধনপন্থার সঙ্গে মেলে না। ইহাকে subjective individualism বল, স্বানুভূতি বল, আর যাই বল—তাহাতে কিছুই আসে যায় না। পৃথিবীতে এপর্যন্ত যে-কোনো সাধক যথার্থ কোনো সত্য উপলব্ধিতে আসিয়া পৌঁছিয়াছেন এবং কোনো সত্যবাণী প্রচার করিয়াছেন, তিনি আপনার পথেই আপনি চলিয়াছেন, দশের পথে যান নাই, শাস্ত্রবাক্যকে অভ্রান্ত বলিয়া মানেন নাই, গুরুকরণ করিয়া গুরুর হাতেই আপনার বুদ্ধিকে গচ্ছিত রাখেন নাই, একেবারে তীরের মতো সোজা সেই পরমলক্ষ্যে গিয়া বিদ্ধ হইয়াছেন। শরবৎ তন্ময়ো ভবেৎ—সেই তন্ময়তা যে কোথা হইতে তাঁহারা পাইয়াছিলেন, যাহাতে বিষয় তৃষ্ণা আপনি বিনা চেষ্টায় তিরোহিত হইয়াছে, প্রেম সর্বভূতে আপনি প্রসারিত হইয়াছে, এবং হৃদয়গ্রন্থিসকল আপনি ছিন্ন হইয়াছে, তাহার কোনো ইতিহাস নাই। পাতালের যোগশাস্ত্রের নির্দিষ্ট সাধনার ধাপ অনুসরণ করিয়া কোনো বড়ো সাধকের সাধনা সিদ্ধির পথে অগ্রসর হয় নাই। আগে purgative