জানি নাই গো সাধন তোমার
বলে কারে।
‘জ্ঞানী’ হইতেছেন সেই-সব লোক যাঁহারা বিচারে প্রবৃত্ত হন—এ সাধনা ‘বস্তুতন্ত্র’ কি না, এটা subjective individualism’এর কোঠায় পড়ে কি না, এবং যদি পড়ে তাহা হইলে এ সাধনার শেষফল কী দাঁড়াইবে ইত্যাদি। এই-সকল লোক একটা সোজা মোটা কথা ভুলিয়া যান যে, জীবন জিনিসটা কোনো শ্রেণী বিভাগের মধ্যে ধরা দিবার মতো জিনিস নহে। সূর্যাস্তের সময়ে মেঘের মধ্যে যখন বর্ণচ্ছটার পর বর্ণচ্ছটা বিচিত্র হিল্লোলে হিল্লোলিত হইতে থাকে তখন সেই-সকল সূক্ষ্ম বর্ণবিভঙ্গের শ্রেণীনির্দেশকার্য যেমন কোনোমতেই সম্ভাবনীয় নহে, কারণ মুহূর্তে মুহূর্তে তাহার পরিবর্তন দেখা দেয়— সেইরূপ জীবন যেখানে স্বভাবত বিকাশলাভ করিতেছে সেখানে তাহার নিত্যনবীন অভাবনীয় গতিশীল পরিবর্তনশীল বৈচিত্র্যকে তত্ত্বের শৃঙ্খলে বাঁধিয়া শ্রেণীর খোপের মধ্যে পুরিবার চেষ্টা করা মিথ্যা। জীবন্ত সাধনার কতটুকু সাব্জেক্টিভ বা আত্মতন্ত্র, কতটুকু অব্জেক্টিভ বা বস্তুতন্ত্র—এ-সকল বিচার করিতে যাওয়াই মূঢ়তা মাত্র। এ তো জড়বস্তু নয় যে স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র কোঠায় গুঁজিয়া রাখা যাইবে—এ যে জৈববস্তু, এ যে নিত্যক্রিয়াশীল, নিত্যপরিবর্তনশীল। তাই কবি বড়ো খেদে বলিয়াছেন—
ওদের কথায় ধাঁদা লাগে,
তোমার কথা আমি বুঝি।
তোমার আকাশ তোমার বাতাস
এই তো সবই সোজাসুজি।
হৃদয়কুসুম আপনি ফোটে,
জীবন আমার ভরে ওঠে,
দুয়ার খুলে চেয়ে দেখি
হাতের কাছে সকল পুঁজি।