করিয়া চেনা যাইবে। কারণ, জীবনই একমাত্র তত্ত্ব। হুইট্ম্যান তাঁহার Assurances-নামক কবিতায় বলিয়াছেন—আমার ছত্রটি ঠিক স্মরণে নাই—I know that exterior has an exterior and interior has an interior—আমি জানি যে, যাহাকে বাহ্য বলি তাহারও একটি বাহির আছে, যাহাকে অন্তর বলি তাহারও একটি অন্তর আছে। সমস্ত বিশ্বতত্ত্ব জানার সঙ্গে সঙ্গে সেই অসীমের তত্ত্ব আরও স্ফুটতর হইবে, যেমন অধুনা বিজ্ঞানের দ্বারা হইতেছে। আত্মতত্ত্ব জানার সঙ্গে সঙ্গে সেই পরমাত্মতত্ত্ব আরও ব্যক্ততর হইবে।—
এই জানারই সঙ্গে সঙ্গে
তোমায় চেনা।
৫
অনেক দিন হইতেই আমাদের দেশে দুইটি সাধনায় বিরোধ চলিতেছে—এক নিরাকার চৈতন্যস্বরূপ ব্রহ্মের সাধনা; আর একটি বৈষ্ণব সাধনা, অর্থাৎ রূপরসের নিবিড় উপলব্ধির ভিতর দিয়া অতীন্দ্রিয় রসস্বরূপের লীলাকে প্রত্যক্ষ করিবার সাধনা। কেবল তত্ত্বমাত্রসার সাধনায় শুষ্কতা আনে, কেবলমাত্র ভক্তিরসবিহ্বল সাধনায় মাদকতা আনে। এ দুয়ের মিলন চাই। কিন্তু সে মিলন তত্ত্বে হইলে চলিবে না, জীবনে হওয়া চাই। রবীন্দ্রনাথের মধ্যে সেই দ্বন্দ্বের সমাধান আমরা দেখিবার জন্য প্রতীক্ষা করিয়া আছি।
গীতিমাল্যের শেষ গানগুলিতে তাহার আভাস পাই।—
ওদের সাথে মেলাও, যারা
চরায় তোমার ধেনু,
তোমার নামে বাজায় যারা বেণু।