বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১৪৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গীতিমাল্য
১৪৫


পাষাণ দিয়ে বাঁধা বাটে
এই-যে কোলাহলের হাটে
কেন আমি কিসের লোভে এনু।
কী ডাক ডাকে বনের পাতাগুলি,
কার ইশারা তৃণের অঙ্গুলি।
প্রাণেশ, আমার লীলাভরে
খেলেন প্রাণের খেলাঘরে—
পাখির মুখে এই-যে খবর পেনু।
এ গান কোনো ভক্ত বৈষ্ণবের রচনা হইতে পারিত।

 কিন্তু ইহার সঙ্গে সঙ্গে আর একটি গানের কয়েক ছত্র উদ্ধৃত করি। সে গানটি কোনোমতেই কোনো বৈষ্ণবের দ্বারা রচিত হইতে পারিত না—

তার অন্ত নাই গো যে আনন্দে গড়া আমার অঙ্গ,
তার অণুপরমাণু পেল কত আলোর সঙ্গ।
ও তার অন্ত নাই গো নাই।···
সে যে প্রাণ পেয়েছে পান করে যুগ যুগান্তরের স্তন্য,
ভুবন কত তীর্থজলের ধারায় করেছে তায় ধন্য।
ও তার অন্ত নাই গো নাই।

 এই নরদেহ গড়িয়া উঠিবার অভিব্যক্তির ইতিহাসের স্তরে স্তরে যে ভগবানের আনন্দলীলা বিরাজিত তাহা উপলব্ধি করা এ কালের কবি ভিন্ন আর কোনো কালের কবির দ্বারা সম্ভাবনীয় ছিল না। ভগবানের অসীম আনন্দকে সীমারূপের মধ্যে নিবিড় করিয়া উপলব্ধি বৈষ্ণব কবির মধ্যে আমরা দেখিয়াছি। আবার সেই সীমারূপকে অসীম দেশে ও অসীম কালে ব্যাপ্ত করিয়া সীমার মধ্যে অসীমতাকে প্রত্যক্ষরূপে উপলব্ধি এ কালের ভক্ত কবিদের মধ্যে দেখিতেছি। টেনিসনের Flower in