বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪
কাব্যপরিক্রমা

প্রকৃতিরাজ্যে এ বোধের স্থান নাই; কারণ, সেখানে সমস্তই নিয়মে চলে, অন্ধ—সংস্কারের বশবর্তী হইয়া চলে। স্বাতন্ত্র্যবোধের কোনো স্থানই সেখানে নাই।

 তার পর সেই পরিচয়ের কথা ‘অল্প অল্প মনে পড়ে’— এ কথারই বা অর্থ কী? আমাদের স্মৃতি কতদূর পর্যন্ত যায়? এই কয়েক বৎসরের জীবনে আমাদের মধ্যে যত বস্তু, যত ভাব ও অনুভাব, যত কল্পনা প্রবিষ্ট হইয়াছে, তাহার বারো—আনা অংশ ভুলিয়াছি, এবং কেবল চারি—আনা অংশের সঙ্গে নিয়ত কারবার করিয়া আসিয়াছি বলিয়া বাল্যের সঙ্গে যৌবনকে, যৌবনের সঙ্গে বার্ধক্যকে অবিচ্ছিন্ন বলিয়া বোধ করিতে পারিতেছি। পৈতৃক নানা সংস্কার তো আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু তাহার সবগুলি কি আমাদের জ্ঞাত? যে—সকল স্মৃতির উপর সেই সংস্কারের ভিত্তি সে—সকল স্মৃতির কোনো বার্তাই কি আমরা জানি? পিতা গেলেন; তার পর পিতামহ—তখন তো আরও অজ্ঞাত। প্রপিতামহ আরও অজ্ঞাত। ক্রমে ঊর্ধ্বে আরও ঊর্ধ্বে গিয়া নিজের বংশের আদিপুরুষ পর্যন্ত পৌছিলাম। তারপর তাঁহাকে ছাড়াইয়া নিজের জাতির আদিপুরুষ পর্যন্ত গেলাম। ধরো প্রথম আর্যপুরুষ যিনি ছিলেন তাঁহার কথাই কল্পনা করি। তাঁহার সম্বন্ধে স্মৃতি তো দূরের কথা, তাঁহা হইতে আগত কোনো সংস্কারের সংবাদ কি আমি জানি? তার পর আরও যুগ যুগ পূর্বে প্রথম মানব, তার পর যুগ যুগ পূর্বে নানা জীবপর্যায়, তার পর আরও কত যুগ পূর্বে উদ্ভিদপর্যায়— তার পর সেই কোন্ আদিম যুগে সেই প্রথম তরুটি— তাহার কথা ‘অল্প অল্প মনে পড়ে’ এ কথাটা কি কেহ দিবালোকে বসিয়া কল্পনা করিতে পারে, না লিখিতে পারে? এক পুরুষের স্মৃতিই যখন থাকে না তখন যুগযুগান্তর পূর্বের স্মৃতি থাকে এ কথা কেমন করিয়া বলা যায়? তবে কবিত্বের মদ্য পান করিলে এবং কল্পনার গঞ্জিকা সেবন করিলে সমস্তই সম্ভব হয়। সাধে শেক্‌স্‌পীয়র