বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬
কাব্যপরিক্রমা

এবং এই প্রত্যেকটি ব্যক্তিত্বের যে স্বতন্ত্র বুদ্ধি ইচ্ছা স্মৃতি ও সংস্কার রহিয়াছে, আধুনিক মনস্তত্ত্ব এমনতর কথা বলিতে আরম্ভ করিয়াছে। ডারুইন এই কথাটিকে নানা স্থানেই মানিয়া লইয়াছেন দেখা যায়। তিনি বলেন—

 An organic being is a microcosm, a little universe, formed of a host of self—propagating organisms, inconcevably minute and numerous as the stars in heaven.

অর্থাৎ, বিচিত্র অঙ্গ—বিশিষ্ট দেহী একটি ক্ষুদ্র ব্রহ্মাণ্ডবিশেষ, তাহা স্ব—স্ব প্রধান বহু দেহের সমষ্টি দ্বারা গঠিত এবং সেই দেহগুলি এত সূক্ষ্ম যে তাহারা ধারণার অতীত এবং আকাশের তারার ন্যায় অগণিত।

 আর—এক জায়গায় তিনি বলিতেছেন, শরীরতত্ত্ববিদগণ সকলেই এ কথা স্বীকার করেন যে, আমাদের দেহের নানান অঙ্গ—সকলের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য আছে— প্রত্যেকটি জীবকোষের কর্ম সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন বলিয়া ধরা যাইতে পারে; সুতরাং তাঁহাদের সিদ্ধান্তের উপর ভর করিয়াই বলা যায় যে, প্রত্যেকটি জীবকোষ একটি স্বপ্রধান স্বতন্ত্র ব্যক্তি— ইত্যাদি।

 জীবকোষের স্বাধীন অস্তিত্বের মত বহু পূর্ব হইতেই বৈজ্ঞানিকসমাজে চলিয়া আসিতেছে; ইহা দেখা গিয়াছে যে, প্রত্যেকটি স্নায়ুকেন্দ্রে (nervous centre) স্মৃতি স্বতন্ত্রভাবে বিরাজ করে। যেমন, আঙুলে ঘা হইয়াছে, ঘা সারিয়া যাইবার পরে ক্ষতের চিহ্নিত স্থানটা শরীরের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পায়। তাহার অর্থ এই যে, সেই চিহ্নিত অংশটুকুর মধ্যে ক্ষতের স্মৃতি জাগরূক হইয়া থাকে। এ তো একটা সহজ প্রমাণ, এরূপ নানা প্রমাণের দ্বারা শরীরতত্ত্ববিদ্গণ এই মতটিকে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন। এবং এই—সকল প্রমাণসহায় হইয়াই প্রত্যেকটি জীবকোষ যে একটি স্বপ্রধান স্বতন্ত্র ব্যক্তি ডারুইন এ মতটিও প্রকাশ করিবার সুযোগ পাইয়াছেন।

 আমাদের মধ্যে এই বহু ব্যক্তির সমাবেশের কারণ অনুসন্ধান করিতে গেলে আরও অনেক কথার আলোচনার মধ্যে যাইতে হয়। আমরা