বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জীবনদেবতা
১৭

দেখিয়াছি যে, মনুষ্য যখন জন্মলাভ করে তখন হইতে তাহার সকল জীবনী—ক্রিয়া এমন সহজভাবে সম্পাদিত হয় যে তাহার কোনো চেষ্টা খাটাইবার বা বুদ্ধি খাটাইবার প্রয়োজনই হয় না। শিশু অনায়াসে নিশ্বাস গ্রহণ করে, মাতৃস্তন হইতে দুগ্ধ চুষিয়া লয় এবং গলাধঃকরণ করে, পরিপাক করে, কানে শোনে, চোখে দেখে ইত্যাদি—— কিন্তু এতগুলা কার্য সে যে আপনিই করিতে পারে ইহার কারণ কী? ইহার কারণ, এগুলি সংস্কাররূপে তাহার মধ্যে আসিয়াছে। আর আমরা ইহাও দেখিয়াছি যে, যখনই কোনো কার্য এরূপ অভ্যাসগত হইয়া যায় যে আর চেষ্টা বা চিন্তা প্রয়োগ করিবার প্রয়োজনমাত্র থাকে না তখনই তাহা যথার্থরূপে সুসম্পন্ন হয়। কিন্তু সেরূপ সংস্কার দাঁড় করানো কি এক—আধ দিনের কাজ? তাহার জন্য বহু বৎসর, হয়তো বহু যুগও লাগিতে পারে। অতএব শিশুর জীবনী—প্রক্রিয়া বহুকাল ধরিয়া হইয়া আসিয়াছে এবং সেই অনেক কালের অভ্যাসের ফলস্বরূপে সে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হইবামাত্রই জীবনচেষ্টায় প্রবৃত্ত হইতে পারিয়াছে। এখন এই সংস্কারকে যদি পূর্বপুরুষের সংস্কার বল তবে তাহা অসংগত হয় না; যদিচ বৈজ্ঞানিকভাবে বলিতে গেলে এই কথাই বলা উচিত যে, তোমার বিশেষ বিশেষ জীবকোষ বহুকাল ধরিয়া এই এক ধরনের জীবনচেষ্টায় অভ্যস্ত হইয়াছে, সুতরাং এইসকল অভ্যাসের স্মৃতি তাহার মধ্যে সংস্কারের আকার ধারণ করিয়াছে।

 সুতরাং ডারুইন যখন বলিয়াছিলেন যে, আমাদের মধ্যে অগণ্য ব্যক্তিত্বের সমাবেশ বিদ্যমান, প্রত্যেক জীবকোষই এক—একটি স্বতন্ত্র স্বাধীন ব্যক্তি, তখন তাহার অর্থ এই যে, প্রত্যেকটি জীবকোষ আপনার বিশিষ্টতার একটি ধারাকে তাহার আরম্ভকাল হইতে বহন করিয়া লইয়া চলিয়াছে। কিন্তু তাই বলিয়া এ কথা মনে করা ভুল হইবে যে, সেই বহুপূর্বেকার কোনো জীবকোষ এবং এখনকার জীবকোষ একই বস্তু, তাহাদের মধ্যে কোনো প্রভেদ ঘটে নাই। কত লক্ষ লক্ষ জন্মের