বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮
কাব্যপরিক্রমা

স্রোতের মধ্য দিয়া তাহাকে প্রবাহিত হইতে হইয়াছে, বাহিরের কত অবস্থার বিপর্যয়, কত পরিবর্তনপরম্পরা তাহাকে আঘাত করিয়াছে, সুতরাং যে জীবকোষ সেই আদিম কোন্ যুগে আপনার জীবনলীলা শুরু করিয়াছিল সে যে আজিও সেই একইভাবে বর্তমান রহিয়াছে, এ কথা কেমন করিয়া বলা যায়?

 তথাপি অনেক পার্থক্য সত্ত্বেও জীবকোষের যে একটি অবিচ্ছিন্ন ধারা রহিয়াছে এবং সে যে তাহার জীবনী—ক্রিয়ার একটি অখণ্ড সংস্কারকেও বহন করিয়া চলিয়াছে, যেজন্য তাহার প্রাণরক্ষিণী ক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও অনায়াসসাধ্য হইতেছে, সে বিষয়ে আর ভুল নাই।

 ইহার আর—একটি প্রত্যক্ষ জাজ্বল্যমান প্রমাণ ভ্রূণতত্ত্বে (embryology) পাওয়া যায়। একটি উন্নত জীব অভিব্যক্তির যে যে অবস্থা অতিক্রম করিয়া আসিয়াছে, গর্ভে অবস্থান—কালে তাহার ভ্রূণ পরিণতির সঙ্গে সঙ্গে সেই সেই অবস্থার রূপ পরে পরে ধারণ করে। গোড়ায় তাহাকে অ্যামিবা বা মৎস্যজাতীয় জীবের ন্যায় দেখিতে হয়, তার পর সরীসৃপের মতো, তার পর পাখির মতো, এমনি করিয়া নানা আকারের ভিতর দিয়া সে নিজের বিশিষ্ট দেহ লাভ করে। এই মতটিকে সে শাস্ত্রে বলে recapitulation theory অর্থাৎ পুনরাবৃত্তির মত। এখন জিজ্ঞাস্য এই যে, কেন কোনো জীবের ভ্রূণ এই—সকল অবস্থার মধ্য দিয়া যাত্রা করিয়া ফুটিবার চেষ্টা করিবে? তাহার সে—সব পূর্বপুরুষের সঙ্গে তাহার তো শ্রেণীগত পার্থক্য হইয়া গিয়াছে। স্যামুয়েল বাট্লার নামক বিখ্যাত ডারুইন—শিষ্য ইহার উত্তরে বলিতেছেন

 If the germ of any animal now living is but part of the personal identity of one of the original germs of all life whatsoever, and hence, if any now living organism must be considered as being itself millions of years old, and as imbued with an intense though