বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২০
কাব্যপরিক্রমা

ধারা অনুসরণ করে যাহার সঙ্গে অন্য শ্রেণীর প্রাণীর সংস্কারের ধারার একেবারে মিল হয় না, তখন সেই ভিন্নশ্রেণীয় (species) প্রাণীদিগকে জোর করিয়া মিলাইলে তাহাতে অত্যন্ত কুফল দৃষ্ট হয়। কাছাকাছির মধ্যে বর্ণসংকর চলে, অত্যন্ত দূরবর্তীদের মধ্যে চলে না। স্যামুয়েল বাট্লার বলেন যে, তাহার কারণ, দূরবর্তীদের মধ্যে স্মৃতির ধারা উলটা ও বিপরীত, সেইজন্য তাহাদিগকে বলপূর্বক মিলাইলে স্মৃতিভ্রংশ হইয়া যায় এবং সেইরূপ দূরসংকরজাত জীব তাহার আদিম অপরিণত অবস্থা প্রাপ্ত হয়। যাহাই হউক, এই unconscious memory অথবা নিশ্চেতন স্মৃতির মতকে তিনি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিয়া প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য বিশেষভাবে প্রযত্ন করিয়াছেন বলিয়াই স্যামুয়েল বাট্‌লারের নাম পশ্চিমদেশে বিখ্যাত।

 ডারুইন এবং তাঁহার শিষ্যবর্গের এই মতটির সঙ্গে কবি রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনদেবতা’র ভাবের সম্পূর্ণ সাদৃশ্য আছে।

 বৈজ্ঞানিক চক্ষে ডারুইন দেখিলেন, প্রত্যেক জীবকোষের স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব আছে, সুতরাং একই মানুষের মধ্যে অগণ্য ব্যক্তিত্বের সমাবেশ ঘটিয়াছে, অথচ তাহারা পরস্পরবিরুদ্ধ হয় নাই, একই অথণ্ড জীবনের মধ্যে বিধৃত হইয়া আছে। কবির অন্তর্দৃষ্টি এবং কল্পনা লইয়া রবীন্দ্রনাথ অনুভব করিলেন, বিশ্ব— অভিব্যক্তির নানা ধারায় তাঁহার যুগযুগান্তরের জীবন প্রবাহিত হইয়াছে, সেই নানা জীবনের নানা ব্যক্তিত্ব তাঁহার মধ্যে আসিয়া মিলিয়াছে; অথচ তাহারা পরস্পরবিরুদ্ধ হয় নাই— একই অখণ্ড ‘জীবনদেবতা’ তাহাদের সকলকে আপনার অন্তর্গত করিয়া লইয়াছেন।

আজ মনে হয়, সকলেরি মাঝে
তোমারেই ভালোবেসেছি,
জনতা বাহিয়া চিরদিন ধরে
শুধু তুমি আমি এসেছি।