প্রাণে তাহা কত মুদিয়া রয়েছে
কত বা উঠিছে মেলিয়া—
পিতামহদের জীবনে আমরা
দুজনে এসেছি খেলিয়া।
শুধু স্যামুয়েল বাট্লার যে এই সুপ্তস্মৃতির মত প্রচার করিয়াছেন তাহা নহে, আধুনিক মনস্তত্ত্বে subliminal consciousness অর্থাৎ মগ্নচৈতন্য বলিয়া একটা কথা বলে। অর্থাৎ, আমাদের চৈতন্যের সবটাই আমাদের কাছে প্রকাশ নয়, অনেকটাই অপ্রকাশ। অপ্রকাশ বলিয়াই যে তাহা অনুপস্থিত এবং তাহার কোনো কাজ নাই, এমন কথা বলা চলে না। এ কিরকম? না, উপমাচ্ছলে বলা যায় যে, সমুদ্রের তলে যে—সব দেশ তৈরি হইতেছে তাহারা যেমন অগোচর, এই মগ্নচৈতন্যও তেমনি অগোচর। দূর হইতে কুহেলিজড়িত বিশাল এক নগরের ক্ষীণাভাসে যেমন সবই অস্পষ্ট নয়, মধ্যে মধ্যে দুটা—একটা সমুচ্চ চূড়া, দুটা—একটা বড়ো বড়ো কীর্তিচিহ্ন যেমন দেখা যায়, অথচ আর সবই ছায়াময়, মগ্নচেতনার রাজ্য কতকটা সেইরূপ।
যদি অভিব্যক্তিবাদ মানি, এবং যেরূপ দেখিলাম যদি জীবনের ও জীবনী—ক্রিয়ার অভ্যস্ত স্মৃতির অখন্তু ধারাকে মানি, এবং মানি যে, আমাদের মধ্যে নানা ব্যক্তিত্বের সমাবেশ সেই অভিব্যক্তির সূত্রে ঘটিতে পথ পাইয়াছে, তবে এ কথা না মানিয়া কোথায় যাইব যে আমাদের চেতনাও অনবচ্ছিন্ন? তার মানে আমাদের যেটুকু চেতনা স্বাধীনভাবে আপনার বুদ্ধি ও ইচ্ছা প্রয়োগ করিতেছে তাহার অপেক্ষা অনেক প্রকাণ্ড চেতনা পূর্বস্মৃতির সংস্কারকে বহন করিয়া আমাদের মধ্যে প্রচ্ছন্ন হইয়া আছে এবং প্রচ্ছন্নভাবেই কাজ করিয়া যাইতেছে। জন্ম মানেই একটা নূতন করিয়া আরম্ভ করা, সুতরাং সেই জন্মের সঙ্গে সঙ্গে আমরা মগ্নচেতনার যুগযুগাস্তরগভীর অতলতার উপরে একটুখানি দ্বীপের বেষ্টনের