বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৩
জীবনদেবতা

মধ্যে সচেতন হইয়া জাগিয়া উঠি এবং সেই অল্প একটু সচেতনতাকে সমগ্র চেতনা বলিয়া ভ্রম করি। একজন লেখক বলিয়াছেন—

 Birth is the end of that time when we really knew our business, and the beginning of the days wherein we know not what we would do.

জন্ম হইতেছে একটা কালের শেষ যখন আমরা আমাদের কার্য কী তাহা জানিতাম এবং অন্য এক কালের আরম্ভ যখন আমরা জানি না আমরা কী করিব? সুতরাং জন্মের সঙ্গে সঙ্গে চিরন্তন জীবনধারার কথা, অথবা যাহা একই কথা, জীবনদেবতার কথাকে ভুলিয়া যদি বর্তমান জীবনকেই একান্ত করিয়া আমরা দেখি, তাহাতে আশ্চর্য কিছুই নাই।

 এই মগ্নচেতনার তত্ত্বকে মানিলে স্মৃতি সম্বন্ধেও আমাদের পূর্বের সংস্কারকে ভাঙিতে বাধ্য হইতে হয়। দেখা গিয়াছে যে, বহু পুরাতন স্মৃতিও একেবারে বিলুপ্ত হয় না, যদিচ বহুকাল পর্যন্ত তাহার অস্তিত্বের কোনো চিহ্নমাত্র থাকে না। হয়তো একটা গন্ধ একজন অশীতি বৎসরের বৃদ্ধকে বাল্যের এমন কোনো ঘটনা মনে করাইয়া দেয় যাহা তাহার মনে পড়িবার কোনো কারণই ছিল না। প্রত্যেকের জীবনের কতকগুলি বাঁধা অভ্যাস আছে এবং সেই বাধা অভ্যাসের স্মৃতি তাহার মধ্যে দিব্য জাগরূক থাকে। অথচ যখন এমন কোনো স্মৃতি মানুষের মনে পড়ে যাহা ভাবের অনুবন্ধিতার নিয়মে তাহার পরিচিত অভ্যাসের কোথাও ধরা দেয় না, তখন তাহা কোনো একটি ইঙ্গিতে (suggestion) মগ্নচেতনার রাজ্য হইতে উঠিয়া আসিয়াছে ছাড়া আর কী কারণ নির্দেশ করা যায়? সুতরাং স্মৃতি যে কত দীর্ঘকাল পর্যন্ত লুপ্তপ্রায় হইয়া আবার জাগ্রত হইতে পারে তাহা হিসাব করিয়া নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব বলিলেই হয়। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু জড়বস্তুর মধ্যেও স্মৃতির সাক্ষ্য লাভ করিয়াছেন। যে জায়গায় কোনো একটা ধাতুপদার্থ