বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪
কাব্যপরিক্রমা

কসময়ে আঘাত পাইয়াছে, বহু বৎসর পরে সেই জায়গায় সেই আঘাতের স্মৃতির পরিচয় সে প্রদান করিয়া থাকে। ইহা যদি সত্য হয় তবে বুঝা যাইবে যে, জাগ্রৎ চেতনার রাজ্যেই যে স্মৃতির ষোলোআনা আধিপত্য তাহা নহে, লুপ্ত বা মগ্নচেতনালোকে তাহার আধিপত্য বড়ো সামান্য নহে। অর্থাৎ, জাগ্রতই বলি বা সুষুপ্তই বলি, সমস্ত চেতনাই এক অখণ্ড অনবচ্ছিন্ন চেতনা। যতদূর দেখা যাইতেছে, ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান এই কথাটা প্রমাণ করিবার দিকেই চলিয়াছে।

 বৈজ্ঞানিক জগতে ফেক্‌নার (Fechner) সর্বপ্রথমে এই সত্যটি ঘোষণা করিয়াছিলেন। বিশ্বজগতে সর্বত্র সর্ববিষয়ে সমধর্মতা বিরাজমান রহিয়াছে, ফেক্‌নারের ইহাই একমাত্র প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল। তিনি বলিতেন, যেমন চোখের সঙ্গে দৃষ্টি, ত্বকের সঙ্গে স্পর্শ সংযুক্ত রহিয়াছে, অথচ এই—সকল ইন্দ্রিয় বিভিন্ন, ইহাদের চেতনাও বিভিন্ন, যদিও আশ্চর্য এই যে আমাদের মনে এই ভেদ মিলিয়া গিয়া সমগ্র শরীরের এক চৈতন্য অনুভূত হয়—ঠিক তদ্রূপ আমার চৈতন্য, তোমার চৈতন্য, প্রত্যেক মানুষের চৈতন্য স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র ও অবচ্ছিন্ন হইলেও এক অখণ্ড মানবচৈতন্যের মধ্যে মিলিয়া যায়। মানসচৈতন্য যেমন ঐন্দ্রিয়চৈতন্যের পার্থক্য—সকলকে মিলাইয়া লয়, মানবচৈতন্য তেমনি ব্যক্তিগত মানসচৈতন্যের পার্থক্যসকলকে মিলাইয়া লয়। মানবচৈতন্য আবার সেই একই প্রণালীতে পশুপক্ষী—বৃক্ষলতার জীবচৈতন্যে মিলিয়া যায়, জীবচৈতন্য সূর্য প্রভৃতি গ্রহমণ্ডলের বিশ্বচৈতন্যে পর্যবসিত হয়; এইরূপে চৈতন্য ‘from synthesis to synthesis and height to height, till an absolutely universal consciousness is reached’—সমন্বয় হইতে সমন্বয়ে, উচ্চ হইতে উচ্চতর সোপানে আরূঢ় হয়, যাবৎ বিশ্বচৈতন্যের অখণ্ড সমগ্রতা সে লাভ না করে।

 ফেক্‌নার চৈতন্যের ক্ষেত্রকে এইরূপ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডব্যাপ্ত করিয়া দেখিয়া—