বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/২৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬
কাব্যপরিক্রমা

প্রাণবান সত্তারূপে উপলব্ধি, যাহা ফেক্নার করিয়াছেন দেখা গেল।

 ‘জীবনদেবতা’র ভাবের সঙ্গে ফেক্‌নারের যে তত্ত্বটি এতক্ষণ ধরিয়া আলোচনা করিলাম তাহার কি খুবই সাদৃশ্য নাই? জীবনদেবতা মানে একটি ‘ever—evolving personality’—ক্রমশ উদ্ভিদ্যমান ব্যক্তিত্ব। কোন্ আদিম যুগ হইতে এই ‘আমি’ নামক ব্যক্তিটির প্রথম সূচনা হইয়াছিল তাহা কে জানে! আমার বর্তমান দেহের জীবকোষসমূহের মধ্যে সেই বহু বহু প্রাচীন যুগের অভিব্যক্তির ভিতর দিয়া নানা জীব—জীবনযাত্রার সংস্কার সকল সুপ্তস্মৃতিরূপে আজিও বিদ্যমান, তাহা দেখা গেল। সেইজন্য সমস্ত বিশ্বজগতের সঙ্গে আমার আপনার এমন একটা অন্তরতম যোগ যে আমি ক্ষণে ক্ষণে অনুভব করিয়া থাকি, ইহা কল্পনা নয়; ইহা আমার দেহাভ্যন্তরের সমস্ত অব্যক্ত প্রাণের অনির্বচনীয় রহস্যময় স্মৃতি হইতে স্পন্দমান এক আশ্চর্য অনুভূতি।

 কিন্তু সেই যুগযুগান্তর হইতে প্রবাহিত এই জীবনধারার অন্তর্নিহিত সত্তাই যদি জীবনদেবতা হন তবে তাঁহাকে আমার বর্তমান আমিত্বের এই খণ্ডচেতনাটুকুর মধ্যে উপস্থিত করিবার এবং উপলব্ধি করিবার কোনো প্রয়োজন তো দেখা যায় না। আমি যে—সকল অবস্থা অতিক্রম করিয়া আসিয়াছি তাহা আবার অতিক্রম করিবার আমার আবশ্বক কী? তরুলতাপশুপক্ষীর সঙ্গে ঐক্যানুভূতির প্রয়োজন কী? তাহা আর কোনো কারণে নয়, কেবল এইজন্য যে, আমি যে মনে করিতেছি যে আমার বর্তমান জীবনের প্রয়োজনের সীমার মধ্যে আমার যেটুকু জাগ্রৎ চেতনা খেলিয়া বেড়াইতেছে তাহাই আমার সব চেতনা—তাহা প্রকৃতপক্ষেই ভুল। আমার চেতনার ক্ষেত্র যে কোন্ সুদূর অতীত হইতে কোন্ সুদূর ভবিষ্যৎ পর্যন্ত প্রসারিত, সে কথাটা বুঝিতেই পারিব না। আমায় তাই এই কথাটি জানিতেই হইবে যে, সেই অখণ্ড— বিশ্বচৈতন্য—লাভ—প্রয়াসী একটি সত্তা আমার মধ্যে চিরকাল ধরিয়া