বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/২৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জীবনদেবতা
২৭

কেবলি আমার জীবনকে গড়িতেছেন, কেবলি তাহাকে বিশ্বের সঙ্গে নানা সম্বন্ধসূত্রে বাঁধিয়া সকল ভেদসীমা দূর করিয়া দিতেছেন। আমাকে অভিব্যক্তির কত স্তরের মধ্য দিয়া তিনি লইয়া আসিয়াছেন; আমার মধ্যে সেই—সমস্ত জীবনযাত্রার অব্যক্ত সংস্কার মগ্নচেতনালোকে মজুত রহিয়াছে; এখনও এই জীবনেও, যেখানে আমার চেতনার প্রসার ব্যাহত সেইখানে, তাহাকে দূর করিবার জন্য তিনি ভিতর হইতে কেবলি আমাকে বিশ্বের সর্বত্র ঠেলা দিয়া বাহির করিতেছেন। ‘There was a child went forth everyday’ তিনিই তো জীবনদেবতা; তিনি চলিয়াছেন ‘from synthesis to synthesis and height to height, till an absolutely universal consciousness is reached’— সমন্বয় হইতে সমন্বয়ে, উচ্চ হইতে উচ্চতর সোপানে, যে পর্যন্ত না বিশ্বচৈতন্যের অখণ্ড সমগ্রতা লাভ করা যায়।—

হে চিরপুরানো, চিরকাল মোরে
গড়িছ নূতন করিয়া—
চিরদিন তুমি সাথে ছিলে মোর,
রবে চিরদিন ধরিয়া।

 ফেক্‌নার সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে প্রাণে ও চৈতন্যে পূর্ণ করিয়া অনুভব করিয়াছেন এবং আমাদের মানসচৈতন্য যে ক্রমে ক্রমে চক্র হইতে পরিবর্ধিত চক্রে আরোহণ করিয়া সেই বিশ্বচৈতন্যের সঙ্গে মিলিত হইবার জন্য যাত্রা করিতেছে, ইহাও তিনি দেখিতে পাইয়াছেন। অর্থাৎ অভিব্যক্তির আরম্ভ হইতে মানুষ পর্যন্ত, অসংহত জ্যোতিঃপিণ্ড ‘নেবুলা’ হইতে সুসভ্য মানুষের উদ্ভব পর্যন্ত, যে একটি ধারা চলিয়াছে, মানুষ সেই ধারাটিকেই পুনরায় অনুসরণ করিয়া আপনার সঙ্গে সমস্ত বিরাট বিশ্বের অখণ্ড যোগ অনুভব করিতে চাহিতেছে। যাহা সে হইয়া আসিয়াছে তাহা সজ্ঞানভাবে জানিবে এবং পূর্ণভাবে উপলব্ধি করিবে, ইহাই