বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮
কাব্যপরিক্রমা

তাহার অভিপ্রায়। এইজন্য একসময়ে যাহাকে সে জড় বলিয়া অবজ্ঞা করিয়াছিল আজ তাহারই মধ্যে প্রাণের আশ্চর্য লীলা দেখিতেছে। যাহা বিস্মৃত বিলুপ্ত ছিল তাহা জাগ্রতক্ষেত্রে আসিয়া রহস্যে তাহাকে অভিভূত করিয়া দিতেছে। সমস্ত চেতনা যে এক অখণ্ড অনবচ্ছিন্ন চেতনা, এই তত্ত্বকে প্রত্যক্ষ করিবার দিকে বিজ্ঞান দর্শন সাহিত্য সমস্তই এখন প্রবলবেগে ধাবিত হইয়া চলিয়াছে।

 চেতনা সম্বন্ধে যেমন ফেক্‌নারের তত্ত্ব কী তাহা দেখা গেল তেমনি আধুনিক কালের দার্শনিক আঁরি বের্গ্‌সঁ সে সম্বন্ধে কী বলেন তাহা দেখা যাক। বের্গ্‌সঁ বলেন, চেতনা মানেই স্মৃতি। যে চেতনায় অতীতের কোনো সাক্ষ্য নাই সে চেতনাই নয়—সে তো প্রতিমুহূর্তেই জন্মিতেছে এবং মরিতেছে।

 অথচ চেতনার মধ্যে ভবিষ্যতের একটি প্রতীক্ষাও আছে। কিন্তু অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এত গায়ে গায়ে লাগাও যে, তাহাদের বিচ্ছিন্ন করা যায় না। যেমন ধর আমি যখন বলি ‘আমি ভালো আছি’ তখন একটু পূর্বেই ভালো ছিলাম এবং পরমুহূর্তেও ভালো থাকিব, এই দুইটা আশ্বাস ঐ কথার সঙ্গে সঙ্গে এমন অব্যবহিতভাবে যুক্ত হইয়া থাকে যে তাহাদের বিযুক্ত করা একপ্রকার অসম্ভব। বের্গ্‌সঁ সে সেইজন্য বলিয়াছেন যে ‘consciousness is a hyphen between past and future’—চেতনা অতীত এবং ভবিষ্যতের মধ্যে একটা হাইফেনের মতো। তিনি বলেন, জড়ের সঙ্গে চেতনার প্রভেদ এইখানে যে, চেতনার দ্বারা আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে, মুহূর্তের মধ্যে, জড়রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ব্যাপার যাহা পরে ঘটিয়াছে তাহাকে ধারণার মধ্যে আয়ত্ত করিতে সমর্থ হই। এই মুহূর্তে আমি চক্ষু দ্বারা যে আলোককে দেখিতেছি তাহার মধ্যে কত সুদীর্ঘকালের ইতিহাস সংহতভাবে নিহিত হইয়া আছে; কত অর্বুদ অর্বুদ ঈথরের কম্পন—