বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৩০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জীবনদেবতা
২৯

মালা, যাহা আমি গণনা করিতে গেলে আমার লক্ষ বৎসর লাগিবে। অথচ আমি একমুহূর্তে এতবড়ো কাণ্ডটা অনুভব করিতে পারিতেছি। দৃষ্টির ন্যায় অন্যান্য চেতনা সম্বন্ধেও এই একই কথা বলা যায়। সুতরাং বের্গ্সঁর মতে চেতনা মানেই অনেকখানি ব্যাপারকে একটুখানির মধ্যে ধরা, জড়রাজ্যে যাহা লক্ষ লক্ষ বৎসর ধরিয়া সম্পাদিত হইতেছে তাহাকে একমুহূর্তের মধ্যে উপলব্ধি করা। তাহাকে বের্গ্সঁ নানা স্থানে কোথাও impulse অর্থাৎ প্রৈতি বলিয়াছেন, কোথাও intuition অর্থাৎ হৃদ্স্থিত সহজ ও অখণ্ড বুদ্ধি বলিয়াছেন— অর্থাৎ তাঁহার মতে চেতনা, বিশ্ব— অভিব্যক্তির মধ্যে সৃষ্টিরই প্রেরণা। এইজন্য বের্গ্সঁ Creative Evolution গ্রন্থ লিখিয়াছেন— অভিব্যক্তির মধ্যে যে একটি সৃজনীশক্তি চেতনারূপে লীলা করিতেছে ইহাই তিনি প্রমাণ করিবার জন্য উদ্যোগী। জড় এই সৃষ্টির প্রেরণার উপকরণ মাত্র। কোথাও কোথাও চেতনা জড়ের দ্বারা আক্রান্ত হইয়া জড়স্বভাবাপন্ন হইয়াছে, কিন্তু তাহার নিয়ত চেষ্টাই এই যে, সে উপকরণের ঊর্ধ্বে উঠিয়া আপনার অনির্বচনীয় অবন্ধন রূপকে প্রকাশিত করিতে সমর্থ হইবে। এ যেন কবিতা— তাহার প্রাণই আসল, ভাষা তাহার উপকরণ; যেখানে তাহার প্রাণ পূর্ণ জাগ্রত সেখানে ভাষার দেহ সেই প্রাণে প্রাণিত, যেখানে প্রাণ সুপ্ত সেখানে ভাষাই সব হইয়া উঠিয়া গতিহীন নিশ্চলতা ও মৃত্যুর আকার ধারণ করে।

 বের্গ্সঁর সম্পূর্ণ মতটি এখানে প্রকাশ করিয়া বলা অসম্ভব, কারণ তাহা এক কথায় দু কথায় সারিয়া দিবার মতো নহে। তবে যতটুকু বলা গেল তাহাতে আমরা দেখিতেছি যে, বের্গ্সঁ চেতনাকে যে সৃষ্টির প্রেরণা বলিয়াছেন, জীবনদেবতার আইডিয়ার সঙ্গে তাহার বেশ মিল আছে। সমস্ত অভিব্যক্তির মধ্যে এই চেতনার ধারাই তো জীবনে জীবনে আমাকে সৃষ্টি করিয়া চলিয়াছে; সে কত কী আনিয়াছে, কত সংস্কার