বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩০
কাব্যপরিক্রমা

জমাইয়াছে, কত ফেলিয়াছে, কত গড়িয়াছে এবং আজ পর্যন্ত তাহার সেই সৃষ্টির কাজ ক্ষান্ত নাই। সে সমগ্র চেতনাকে যতক্ষণ পর্যন্ত না লাভ করিবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে আপনাকে সৃষ্টি করিয়াই চলিবে। এক দিকে তাহার অনাদি অতীত, অন্য দিকে অনস্ত ভবিষ্যৎ।—

এখনি কি শেষ হয়েছে প্রাণেশ,
যা কিছু আছিল মোর?
ভেঙে দাও তবে আজিকার সভা,
আনো নব রূপ, আনো নব শোভা,
নূতন করিয়া লহো আরবার
চিরপুরাতন মোরে—
নূতন বিবাহে বাঁধিবে আমায়
নবীনজীবনডোরে।

 আমি যে জীবনদেবতা লইয়া এত বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক, প্রমাণপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করিলাম তাহা দেখিয়া অনেক কাব্যরসজ্ঞ ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হইতে পারেন। রসের দিক দিয়া কবিতার একপ্রকার উপভোগ আছে এবং তাহাই যে তাহার শ্রেষ্ঠ উপভোগ সে সম্বন্ধে আমার সন্দেহমাত্র নাই। কিন্তু পূর্বেই বলিয়াছি যে, কবিতা শুধুই রস কিন্তু সত্য নয়, এমন করিয়া দেখা আমি যথার্থ দেখা বলিয়া মনে করি না। তাহার মাহাত্ম্যই তাহার প্রকাশে, সেইখানেই তাহার রস, এবং তত্ত্বপদার্থ তাহার মধ্যে একেবারেই গৌণ—ইহা স্বীকার করিলেও, তাহাকে সত্তাবর্জিত প্রাণবর্জিত রূপমাত্র মনে করিয়া আমি কোনো সান্ত্বনা লাভ করি না। আমার বিশ্বাস এই এবং জীবনদেবতার আলোচনায় এ ক্ষেত্রে আমি স্পষ্টই দেখিতে পাইতেছি যে, বড়ো কবি মাত্রেই জানিয়া এবং না জানিয়া তাঁহার কালের সকল দিক্‌কার সকল প্রয়াসের মধ্যে সাধনার মধ্যে ও চিন্তার মধ্যে প্রবেশ লাভ করিয়া থাকেন। আমি যে—সকল