বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
জীবনদেবতা
৩১

চিন্তার ধারা অনুসরণ করিলাম, হইতে পারে যে রবীন্দ্রনাথ তাহাদের সঙ্গে যোগ রাখিয়াছিলেন বলিয়া এই জীবনদেবতার ভাব তাঁহার মধ্যে জাগিয়াছে, কিন্তু তাহা না হইলেও আপনা—আপনি আপনার কবিত্বের অন্তর্দৃষ্টি হইতেই এই ভাব তাঁহাকে অধিকার করিতে বাধ্য— যখন এই ভাবের বাষ্প সমস্ত আকাশে ছড়াইয়া আছে দেখিতে পাই। এইজন্যই বড়ো কবিকে seer বা দ্রষ্টা বলে— তিনি নদীর মতো তাঁহার কালের নিম্নস্তরে গভীরভাবে প্রবাহিত সকল ভাব—উৎস হইতে খাদ্য সংগ্রহ করিয়া পুষ্টিলাভ করিয়া থাকেন। যাহা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়াইয়া থাকে তাহাকে তিনি সংহত করিয়া এক করেন। আর এইজন্য বড়ো কবির সমগ্র জীবনের ভিতর হইতে সমুদ্ভূত কোনো আইডিয়াকে নিতান্ত কাল্পনিক বলিয়া উড়াইয়া দেওয়া একমাত্র নির্বোধ ও প্রাকৃত জনের দ্বারাই সম্ভব। জীবনদেবতার রহস্য কিছু কিছু উদ্ঘাটিত হইলে তাহা খুবই আনন্দের বিষয় হইবে সন্দেহ নাই।[]

 ১৩১৯

  1. জীবনদেবতা প্রবন্ধে আমরা জীবতত্ত্বের যে সিদ্ধান্তের কথা বলিয়াছি তাহা পণ্ডিত—সমাজে এখন অগ্রাহ্য। জীবতত্ত্বে লামার্ক্ প্রভৃতির মত ছিল যে, এক আদিম জীবকোষই অভিব্যক্তির ফলে খাদ্য জলবায়ু ও পরিবেষ্টনের (environment) নানা বৈচিত্র্যের কারণে বিভিন্ন জীবশ্রেণীতে (species) ক্রমে পরিণত হইয়াছে। কিন্তু এখন দেখা যাইতেছে যে লামার্কের ‘gelatinous bodies’ অথবা হেকেলের (Haeckel) ‘moneron’, ইহারা কেহই আদিম জীবকোষ নহে। আদিম জীবকোষ এক নহে। গরিলা বা শিম্পাঞ্জি হইতে যে মানুষের উদ্ভব হইয়াছে বা জীবজন্তু উদ্ভিদ হইতে ক্রমবিকাশ লাভ করিয়াছে, এ মত এখন প্রসিদ্ধ বৈজ্ঞানিকেরা অস্বীকার করিয়াছেন। এখন প্রায় সকলেই বলিতেছেন যে,