৩৩
রাজা
বাংলা সাহিত্যে যে-সকল উপন্যাস, ছোটো গল্প, কবিতা ও নাটক পড়া যায় তাহা হইতে বাঙালি পাঠকের মানসিক স্তর নির্ণয় করিবার জন্য কোনো গভীর গবেষণার প্রয়োজনমাত্র করে না। আমাদের ‘ডিমাণ্ড্’ অনুসারেই এ-সকল জিনিসের ‘সাপ্লাই’ হয় সত্য; কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, এতদিনকার শিক্ষা সত্ত্বেও আমরা instinctএর স্তর বেশি দূর পর্যন্ত ছাড়াইয়া উঠিতে পারি নাই। সেইজন্য আমাদের রুচি যথেষ্ট শুচি হয় নাই, রসবোধ যথেষ্ট গভীর হয় নাই। আমরা যে-সকল স্থূল নিম্নপ্রবৃত্তিময় জীবনের নিতান্ত নিম্নরসের সৃষ্টি করিতেছি তাহাও আবার এমনি ছায়া-ছায়া ভাসা-ভাসা ও দুর্বল যে, মনে হয়, সে-সকল সৃষ্টিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্নায়বিক দৌর্বল্যের ফল বৈ আর কিছুই নয়। তাহাদেরও মধ্যে যদি এই শ্রেণীর ফরাসীস লেখকদের সজীবতা থাকিত তবে কথা ছিল না। কবিবর রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ যে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সেই-সকল অপূর্ব সৃষ্টির অন্তর্গত নয়, এ নাটকে যে কতগুলি নিতান্ত স্থূল মানুষের রাগদ্বেষপ্রণয়াদি হাসিকান্নার ব্যাপারের কৃত্রিম উত্তেজনাপূর্ণ চিত্র পাওয়া যাইবে না, এ যে একেবারেই সেই পুরানো শ্রেণীর নয়, বরং অত্যন্ত আধুনিক, আধুনিকতম শ্রেষ্ঠ নাটকগুলির সগোত্র, এই কথাগুলি বুঝাইবার জন্যই আমি আধুনিক নাটকের স্বরূপ সম্বন্ধে অন্যত্র আলোচনা করিয়াছি।[১] আধুনিক নাট্যসাহিত্যের মধ্যে ‘রাজা’ নাটকের স্থান কোথায়, ইহার আর্ট-রূপের কোনো বিশিষ্টতা আছে কি না, ইহার মধ্যে কোনো নূতন রস সৃষ্ট হইয়াছে কি না, মানবজীবনের কোন্ অংশকে ইহা উদ্ভাসিত করিয়া দেখাইয়াছে, ইহার সৃষ্ট চরিত্রগুলির মধ্যে কোনো নূতনত্ব
- ↑ ‘আধুনিক কাব্যের প্রকৃতি’, প্রবাসী, জ্যৈষ্ঠ ১৩২৩