আছে কি না——এই আলোচনাগুলিতে প্রবৃত্ত হইবার জন্য আধুনিক নাট্যসাহিত্য সম্বন্ধে ঐ প্রবন্ধে একটু মুখবন্ধ করিয়া লওয়া দরকার বোধ করিয়াছি।
‘রাজা’ অধ্যাত্মরসের নাট্য। এ নাট্যের অনুরূপ কোনো সৃষ্টি সাহিত্যে আছে বলিয়া আমি জানি না। পশ্চিম—মহাদেশে থাকিলেও নাটকাকারে নাই, অন্য আকারে আছে। প্রাচীন কালের সেণ্ট্ অগস্টিনের Confessions বা দান্তের Vita Nuova এবং এ কালের ব্লেকের The Marriage of Heaven and Hell বা ফ্রান্সিস্ টম্প্সনের The Hound of Heaven—এ সকলের সঙ্গে এ নাট্যের বিষয়ের কতক কতক সাদৃশ্য আছে। তবে সে সাদৃশ কোনো কাজেরই নয় এইজন্য যে, সে—সকল গ্রন্থের অধ্যাত্মরসের সঙ্গে এ রসের প্রভেদ যথেষ্ট। শুধু যে ধর্মভেদের জন্য এই ভেদ ঘটিয়াছে তাহা আমি একেবারেই মনে করি না; কারণ, ধর্মের সঙ্গে ধর্মের মতগত ভেদ যেমনি থাক্, অধ্যাত্ম—অভিজ্ঞতার সাদৃশ্য সকল দেশের ধর্মসাধনার মধ্যেই পাওয়া যায়। সুতরাং ধর্মভেদের জন্য অধ্যাত্মরসের যে ভেদের কথা বলিতেছি তাহা ঘটে নাই। প্রধান যে কারণে ঘটিয়াছে তাহা বলি।
আর্টের সাধনার সঙ্গে অধ্যাত্মসাধনার এক জায়গায় গুরুতর রকমের প্রভেদ আছে। শিল্পসাধকের কাছে তাহার নিজের বিশেষ রূপটাই বড়ো; সমস্ত বিশ্বকে সেই রূপের ছাঁচে ঢালাই করিতে পারিলে তবেই তাহার তৃপ্তি। বিশ্ব তার জন্য, সে বিশ্বের জন্য নয়। বিশ্ব তার উপকরণ, সে যেমন খুশি তাহাকে গড়িবে ভাঙিবে। এইজন্যই তাহার কোথাও নিঃশেষে আত্মদান নাই, কেবলই আত্মগ্রহণ আছে। অর্থাৎ সে কেবলই আপনার আধারের মধ্যে বিশ্বকে গ্রহণ করে, বিশ্বকে বিশেষ করিয়া লয়।
অধ্যাত্মসাধকের পথ একেবারে ইহার উল্টা। তাহার কাছে বিশ্বই বড়ো; আপনাকে সেই বিশ্বের মধ্যে নিঃশেষিত করিতেই তাহার সমস্ত