বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
রাজা
৩৫

তৃপ্তি। সে বিশ্বের জন্য, বিশ্ব তার জন্য নয়। বিশ্বরূপের কাছেই তার আত্মদান সম্পূর্ণ হইলে তবেই তাহার সাধনার সম্পূর্ণতা।

 তবে সে কালের অধ্যাত্মসাধনার পথ ঠিক এই পথ ছিল, এ কথা বলা যায় না। সে সাধনা প্রধানভাবে বিশ্বের মধ্যে বাড়া ছিল না, বিশ্বকে ছাড়া ছিল। আত্মদান এখনকার মতো তখনও তাহার লক্ষ্য ছিল বটে, কিন্তু সে হয় এক অনন্ত অনধিগম্য নিরুপাধি ঈশ্বরের কাছে আত্মদান, নয় এক সান্ত সাকার বিগ্রহের কাছে আত্মদান। সেইজন্যই রূপের সাধনার সঙ্গে অধ্যাত্মসাধনার ভেদ সে কালে মেলানো শক্ত ছিল। অবশ্য মধ্যযুগে ইউরোপে কিম্বা বৌদ্ধযুগে ভারতবর্ষে চীনে এবং জাপানে যেখানে যেখানে শিল্প ধর্মের সেবা করিয়াছে দেখা যায়, সেখানে সেখানে শিল্পসাধনা ও অধ্যাত্মসাধনা যে মিলিয়াছে, এমন কথা বলা যায় না। বরং সেখানে শিল্প নিজের স্বরূপ খর্ব করিয়া বিশেষভাবে ধর্মশিল্প বা religious art হইয়া উঠিয়াছে, ইহাই লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং শিল্প ও শিল্পসাধনা বলিতে আমরা এখন যাহা বুঝি, সে—সকল যুগের শিল্প ও শিল্পসাধনা একেবারেই তাহা নয়। তাহাদের স্বাতন্ত্র্য নাই; ধর্মের যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুর মধ্যে তাহাদের সীমা বাঁধা। এই কারণেই ধর্মের আধিপত্য ছাড়াইয়া উঠিবার জন্য আর্টের প্রাণপণ প্রয়াস হয় এবং ক্রমশ ধর্ম আর্ট্কে তাহার স্বতন্ত্র পথে যাইতে না দিলে আর্টের রস বিকৃত হইতে থাকে এবং সেই রসবিকার তখন ধর্মের মধ্যেও বিকার ঘটায়। ইতালীর এবং ভারতবর্ষের রেনেসাঁসের যুগে ইহার যথেষ্ট উদাহরণ দেখা গিয়াছে। আর্টের সাধনা এবং অধ্যাত্মসাধনার মধ্যে যে পার্থক্য আছে বলিলাম তাহাকে ভুলিতে গেলেই, কোনো গতিকে দুই সাধনাকে এক করিতে গেলেই, ইহারা পরস্পর পরস্পরকে কাটে।

 অথচ এ কালে আমরা দেখিতেছি যে, এই দুই সাধনার মধ্যে যে একান্ত ভেদ দাঁড়াইয়া গিয়াছে তাহা থাকিলে তো চলে না। এখন তো আর