করিয়া তাঁহার তৃপ্তি নাই। রানী শেষে রাজাকে ধরিয়া বসিলেন যে, রাজাকে একবার সব জিনিসের মাঝখানে বাইরে আলোয় দেখা দিতে হইবে। রাজা তাঁহাকে বলিলেন, বেশ, বসন্তপূর্ণিমার উৎসবে প্রাসাদের শিখরের উপর দাঁড়াইয়া রানী হাজার লোকের মাঝখানে রাজাকে দেখিবার চেষ্টা করিতে পারেন। রাজা তাঁহাকে সেই লোকের ভিড়ের মধ্যে সকল দিক হইতেই দেখা দিবেন।
সে দেশের লোকে কিন্তু রাজাকে কখনও চক্ষে দেখিতে পায় না— কারণ, রাজা যেমন রানীর কাছে দেখা দেন না তেমনি প্রজাদের কারও কাছেই দেখা দেন না। তাহাদের অনেকেরই তাই সংশয় যে রাজা মোটেই নাই। বসন্ত—উৎসবে অন্যান্য রাজারা আমন্ত্রিত, রাজার দেখা না পাইয়া তাহাদেরও মনে সেই সংশয়ই পাকা হইয়াছে। কেবল কাঞ্চীর রাজার মনে এ সম্বন্ধে কোনো সংশয় নাই— লোকটা সংশয়বাদীও নয়— একেবারে নাস্তিক ও বিদ্রোহী বলিলেই হয়।
ইতিমধ্যে বসস্ত—উৎসবে সুবর্ণ নামে এক ছদ্মবেশী এবং সুপুরুষ, এবং সেই কারণেই ভিতরে কাপুরুষ, ব্যক্তি সে দেশের রাজা বলিয়া নিজেকে চালাইবার জন্য চেষ্টা করিতেছে। কাঞ্চীরাজের কাছে তাহার ফাঁকি ধরা পড়িয়াছে। কাঞ্চীরাজ আসল রাজার অস্তিত্ব সম্বন্ধে যতই জোর করিয়া অবিশ্বাস করুক, নকল রাজার নকলটুকু তাহার চোখ এড়ায় না। কাঞ্চীরাজ সুদর্শনাকে লাভ করিবার লোভ রাখে; সুবর্ণকে তাহার সেই উদ্দেশ্য সফল করিবার জন্য সে হাতে রাখিল।
বসন্তপূর্ণিমার উৎসবে সেই সুরূপ সুবর্ণকে দেখিয়া সুদর্শনা রানী তাহাকেই রাজা বলিয়া ভ্রম করিল। সুরঙ্গমা তাহার কাছে ছিল না। রানী পদ্মপাতায় ফুল সাজাইয়া সুবর্ণকে রাজা—ভ্রমে অর্ঘ্য পাঠাইল। সুবর্ণ তাহার অর্থ কিছুই বুঝিতে পারিল না, কিন্তু কাঞ্চীরাজ বুঝিতে পারিয়া সুবর্ণের গলা হইতে মুক্তার একগাছি মালা নিজে খুলিয়া লইল এবং দাসীর