বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কাব্যপরিক্রমা - অজিতকুমার চক্রবর্তী (১৯৫৮).pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৮
কাব্যপরিক্রমা

হাত দিয়া মহারাজের মালা বলিয়া রানীকে পাঠাইয়া দিল। রাজার হাতের এই অগৌরব রানীকে বিধিল।

 তার পরে অদৃশ্য রাজার প্রতি অবিশ্বাসী ও বিদ্রোহী কাঞ্চীরাজ সুদর্শনাকে পাইবার আশায় প্রাসাদের এক কোণে আগুন ধরাইয়া দিতে, সে আগুন দেখিতে দেখিতে এমন ব্যাপ্ত হইয়া পড়িল যে, কাঞ্চী নিজে পলাইবার পথ পায় না। বেচারা সুবর্ণ তখন ভয়ে আকুল, রানী আগুন হইতে রক্ষা পাইবার জন্য তাহার শরণাপন্ন হইতেই সে তৎক্ষণাৎ কবুল করিল যে, সে রাজা নয়। লজ্জায় সুদর্শনা ম্রিয়মাণ হইল। তার পরে সেই প্রলয়ের দিনে আসল রাজার প্রচণ্ড ভয়ানক রূপ সে দেখিতে পাইল— ধূমকেতু—উঠা আকাশের মতো কালো রূপ। রাজা সেই রুদ্র ভীষণ রূপেই রানীকে প্রবৃত্তির প্রলয়দাহ হইতে রক্ষা করিলেন। তখন রানীর ভিতরে এক দিকে পাপের নিদারুণ দাহ ও লজ্জা, অন্য দিকে রূপের তীব্র নেশা। রাজার সেই ভীষণ রূপ সে সহ্য করিতে পারিল না। রাজার কাছ হইতে সে দূরে পলাইয়া যাইতে চাহিল।

 সুদর্শনা রাজার কাছে থাকিল না। রাজা তাহাকে কোনো নিষেধ করিলেন না, তাহার উপর জোর করিলেন না। সুদর্শনার মনে তীব্র অভিমান জাগিয়া উঠিল। তাহার সেই বিদ্রোহের দিনে সুরঙ্গমা তাহার সঙ্গ লইল। সে বলিল, ‘তোমার পাপের আমিও ভাগী। আমি তোমার সঙ্গে সঙ্গে থাকিব।’

 স্বাভিমানের সঙ্গ লইল নম্রতা।

 সুদর্শনা তখন তাহার বাপের বাড়ি আসিল। রাজার সম্বন্ধে তাহার তখন তীব্র অভিমান; কারণ, বাপের বাড়িতে তাহার তো আর রানীর ঐশ্বর্য নাই, সেখানে তাহার অগৌরবের স্থান, সেখানে তাহাকে দাসী হইয়া থাকিতে হইতেছে। তাহার যে পতন হইয়াছে এবং সেইজন্য যে তাহার অহংকার পদে পদে ক্ষুণ্ণ হইতেছে, সে কথা বুঝিলেও মানিয়া লওয়া তাহার